জামায়াতের ৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ভেতরে ঢুকে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে জামায়াত নেতা পলাশ আহমেদসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরপরই পলাশবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন, গোলজার রহমান (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), শাওন (৩৫), সবুজ মিয়া (৩২) ও মো. আব্দুর মালেক (৩৭)। তারা সবাই পলাশবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা। মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াতের পলাশের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২১ জন থানায় ঢুকে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন। তারা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ওসিকে দোকনটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ভেতরে ঢুকে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে জামায়াত নেতা পলাশ আহমেদসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরপরই পলাশবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন, গোলজার রহমান (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), শাওন (৩৫), সবুজ মিয়া (৩২) ও মো. আব্দুর মালেক (৩৭)। তারা সবাই পলাশবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াতের পলাশের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২১ জন থানায় ঢুকে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন। তারা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ওসিকে দোকনটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করেছেন বলে পলাশসহ অন্যদের জানিয়ে দেন। এতে তারা ওসির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তারপর পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে এলোপাতাড়িভাবে লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় সংরক্ষিত সরকারি বিভিন্ন রেজিস্টারপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। এছাড়া কয়েকজন কনস্টেবলকেও মারধর করেন তারা। পরে থানা ঘেরাও করার হুমকি দিয়ে চলে যান জামায়াত নেতা পলাশ।
ঘটনার পর আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়। এতে দেখা যায়, ওসির সঙ্গে কথা বলছেন জামায়াত নেতা পলাশ। সেখানে এক ব্যক্তি ভিডিও করছেন দুজনকেই। কথা বলার একপর্যায়ে ওসিকে ওই নেতা হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। এরপরই ওসিকে মারধর শুরু করে তারা।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পলাশবাড়ি কালীবাড়ী হাটের একটি সরকারি দোকানঘর বরাদ্দের অভিযোগ নিয়ে যুব জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিযোগটির দ্রুত সমাধান চাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা অর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে বন্ধ দোকানের তালা একপক্ষকে খুলে দেয় এমন অভিযোগ তোলেন যুব জামায়াত নেতাকর্মীরা। এরপর যুব জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি ভিডিও করা শুরু করেন। তাদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ওসি দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় জামায়াতের যুবনেতা পলাশ ওসির হাত ধরে টানাটানি শুরু করেন। এক পর্যায়ে শুরু হয় ওসিকে মারধর।
মামলার বাদী রুহুল আমিন বলেন, পুলিশের ওপর হামলা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটকাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছি। এভাবে অতর্কিত হামলা সত্যি দুঃখজনক। আমি হাতে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি। যারা হামলা করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত পলাশ আহমেদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের নেতারা থানায় গেছেন। জামায়াতের কোনো কর্মী এ ঘটনায় জড়িত থাকলে থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?