জামায়াতের ইফতার মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদককারবারি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবুকে এবার দেখা গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলের মঞ্চে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছে এবং এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার (৯ মার্চ) রাজশাহীর গোদাগাড়ী জামায়াতের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমপির ঠিক পেছনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় সেতাফুর রহমান বাবুকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকায়। একসময় তিনি পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। এরপর তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে প্রকাশিত মাদক কারবারিদের এক তালিকায় সেতাফুর রহমান বাবুর নাম ৯ নম্বরে ছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে

জামায়াতের ইফতার মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদককারবারি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবুকে এবার দেখা গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলের মঞ্চে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছে এবং এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজশাহীর গোদাগাড়ী জামায়াতের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমপির ঠিক পেছনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় সেতাফুর রহমান বাবুকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকায়। একসময় তিনি পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। এরপর তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে প্রকাশিত মাদক কারবারিদের এক তালিকায় সেতাফুর রহমান বাবুর নাম ৯ নম্বরে ছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু অসাধু রাজনীতিক ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি মাটিকাটা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার নেতৃত্ব থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানের পর নিহত নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মাসুম সরকার বাদী হয়ে সেতাফুর রহমান বাবুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে ওই এলাকায় জিয়া পরিষদের কার্যালয় দখলের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাব্বির রহমান জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন তৎকালীন ইউপি সদস্য সেতাফুর রহমান বাবু। পরে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় জেলা প্রশাসনের সুপারিশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ইউপি সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর গোদাগাড়ী ও রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় একাধিক মামলা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কয়েকদিন আগে এলাকায় ফিরে এসে তাকে জামায়াতের ইফতার মাহফিলের মঞ্চে দেখতে পাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এতদিন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর আশীর্বাদে থাকা এ মাদক কারবারি এখন জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে।

নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুম অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের ওই ইফতার মাহফিল আয়োজনের পুরো খরচই নাকি বহন করেছে সেতাফুর রহমান বাবু। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। সেই আসামিকেই এখন জামায়াতের মঞ্চে এমপির পাশে বসতে দেখা যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভালো বলতে পারবে।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান জানান, সেতাফুর রহমান বাবু যে একজন মাদক কারবারি এবং যুবলীগের নেতা— এটি তিনি জানেন। তবে তাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি এবং মঞ্চে বসার বিষয়টি পরে শুনেছেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেতাফুর রহমান বাবুর দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

গোদাগাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, সেতাফুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না তা যাচাই করে বলতে হবে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। 

তিনি বলেন, মাদক কারবারি হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও আইনের বাইরে থাকার সুযোগ নেই।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow