জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে নেতা গুরুতর আহত, মায়ের মৃত্যু

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোট কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম। সোমবার (রাত আনুমানিক ১১টা) নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ছেলের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মাজেদা বেগম। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে—এমন সংবাদ শোনার পরপরই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের সমর্থকেরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়। পরে আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে অর্ধশ

জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে নেতা গুরুতর আহত, মায়ের মৃত্যু

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোট কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম।

সোমবার (রাত আনুমানিক ১১টা) নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ছেলের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মাজেদা বেগম। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে—এমন সংবাদ শোনার পরপরই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের সমর্থকেরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়। পরে আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

খবর ছড়িয়ে পড়লে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আটক থাকা বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে যান জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

অন্যদিকে একই ঘটনায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী। বগুড়া-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, সোমবার রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহ হেল গালিব প্রচারণা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন এবং চিকিৎসা নেন। এছাড়া পারশন গ্রামে দাঁড়িপাল্লার কর্মী ফারুক হোসেনকে মারধর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে মন্তব্য করে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি সুন্দর ও মানবকল্যাণমূলক রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow