জামায়াত লড়বে ১৭৯ আসনে, ফাঁকা ৪৭ আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ মোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে দলটির জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি দেওয়া হয়। ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শরিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসনে প্রার্থী দেবে। কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হলেও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো আসনে প্রার্থী দেবে না। সংবাদ সম্মেলনে দলভিত্তিক

জামায়াত লড়বে ১৭৯ আসনে, ফাঁকা ৪৭ আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ মোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে দলটির জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি দেওয়া হয়।

ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শরিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসনে প্রার্থী দেবে। কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এই নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হলেও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো আসনে প্রার্থী দেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে দলভিত্তিক আসনসংখ্যা ঘোষণা করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এত ভিন্ন দর্শনের দল একত্র হয়ে এমন বৃহৎ নির্বাচনী ঐক্য আগে দেখা যায়নি। আমরা ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ অনুসরণ করেছি—প্রতিটি আসনে একজন অভিন্ন প্রার্থী থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা হাতে হাত ধরে তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জোট ভাঙেনি। কোনো একটি দল এখনো একমত হয়নি—এটা ভাঙনের বিষয় নয়। এটি কোনো জোট নয়, এটি একটি নির্বাচনী ঐক্য।” তিনি আরও বলেন, “তারা নিজেদের মধ্যে আরও বোঝাপড়া করছে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। আশা করছি, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে যুক্ত রাখতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে দলগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ শুক্রবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ফজলুল করিম মারুফ জানান, বিকেলে পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসন সমঝোতা বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তারা সবাই নির্বাচনী ঐক্য বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow