জামায়াত-শিবির পরিচয়ে মার্কেট দখল, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা) দখল করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি ও বিপুল অর্থ আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের একদল দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেছেন, মার্কেটে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর প্লাজার নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা। ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মো. সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।' তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে। কামরুজ্জামান দা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা) দখল করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি ও বিপুল অর্থ আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের একদল দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেছেন, মার্কেটে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর প্লাজার নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।
ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মো. সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।'
তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে।
কামরুজ্জামান দাবি করেন, বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৪০ লাখ টাকা, ওয়াসা বিলের ২৮ লাখ টাকা এবং লিফট মেরামতের নামে আদায় করা প্রায় ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রোববার (৫ জুলাই) 'শান্তি মিছিলের' নামে রিকশায় করে লোকজন এনে হকিস্টিক বিতরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীদের এই প্রতিনিধি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের উদ্দেশে কামরুজ্জামান প্রশ্ন রেখে বলেন, 'আত্মস্বীকৃত দখলদার ও
চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে গুলিস্তান এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কেন?'
এক প্রশ্নের জবাবে দোকান মালিকদের প্রতিনিধি ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, 'ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২-এ বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।'
সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মামুন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
চাঁদাবাজি ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলী হাসান সুমন বলেন, 'আমরা এই সংবাদ সন্মেলনের বিরুদ্ধে আরেকটি সংবাদ সন্মেলন করবো৷ সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে৷ যিনি সংবাদ সন্মেলন (লিখিত বক্তব্য পাঠ করা ব্যক্তি) করেছেন পাশের মার্কেটের লোক। এই মার্কেটে তার কী? তিনি তো আওয়ামী লীগের আওয়াল কমিশনারের লোক। তারা যেসব অভিযোগ করেছে সবই মিথ্যা। আমরা তাদের অপকর্মের সব প্রমাণ নিয়ে সংবাদ সন্মেলন করবো৷ তখন তাদের আসল পরিচয় বেরিয়ে আসবে৷ এতো দিন তো কিছু বলি নাই, এখন আর চুপ থাকার সময় নাই।'
এছাড়া সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মো. কিবরিয়া স্বাধীন, মো. কবীর হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. কাউসারসহ অন্য ব্যবসায়ীরা।
What's Your Reaction?