জার্মানিতে এত মার্কিন ঘাঁটি কেন?

জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ‘পরাস্ত ও অপদস্থ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করার কয়েকদিন পরই এমন ঘোষণা এলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ঘাঁটিগুলো থেকে সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের জন্যই নেতিবাচক হতে পারে। জার্মানিতে এত ঘাঁটি কেন? জার্মানিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময় থেকে। ১৯৪৫ সালে নাৎসি শাসনের পতনের সময় দেশটিতে ১৬ লাখ মার্কিন সৈন্য ছিল। পরবর্তী সময়ে স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকানোর লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হলে এই ঘাঁটিগুলো স্থায়ী রূপ পায়। স্নায়ুযুদ্ধের তুঙ্গে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ সামরিক স্থাপনা ও আড়াই লাখের বেশি সৈন্য ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অনেক ঘাঁটি বন্ধ হলেও জার্মানি এখনো ইউরোপে মার্কিন শক্তির প্রধান কেন্দ্র। ঘাঁটিগুলোর কাজ কী? মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার সক্রিয় মার্কিন সেনা রয়েছে,

জার্মানিতে এত মার্কিন ঘাঁটি কেন?

জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ‘পরাস্ত ও অপদস্থ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করার কয়েকদিন পরই এমন ঘোষণা এলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ঘাঁটিগুলো থেকে সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের জন্যই নেতিবাচক হতে পারে।

জার্মানিতে এত ঘাঁটি কেন?

জার্মানিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময় থেকে। ১৯৪৫ সালে নাৎসি শাসনের পতনের সময় দেশটিতে ১৬ লাখ মার্কিন সৈন্য ছিল। পরবর্তী সময়ে স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকানোর লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হলে এই ঘাঁটিগুলো স্থায়ী রূপ পায়। স্নায়ুযুদ্ধের তুঙ্গে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ সামরিক স্থাপনা ও আড়াই লাখের বেশি সৈন্য ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অনেক ঘাঁটি বন্ধ হলেও জার্মানি এখনো ইউরোপে মার্কিন শক্তির প্রধান কেন্দ্র।

ঘাঁটিগুলোর কাজ কী?

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার সক্রিয় মার্কিন সেনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ জনই জার্মানিতে অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন>>
যুদ্ধে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে: জার্মান চ্যান্সেলর
জার্মানি থেকে ৫০০০ সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার, ওয়াশিংটনের কাছে ব্যাখ্যা চায় ন্যাটো

এই সেনারা ২০ থেকে ৪০টির মতো ঘাঁটিতে ছড়িয়ে আছেন। এর মধ্যে স্টুটগার্টে মার্কিন ‘ইউরোপীয় কমান্ড’ এবং ‘আফ্রিকা কমান্ড’-এর সদর দপ্তর অবস্থিত, যেখান থেকে দুই মহাদেশের সামরিক অপারেশন সমন্বয় করা হয়। আর রামস্টাইন বিমানঘাঁটি ইউরোপে মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ সেনা কর্মরত।

লান্ডস্টুল মেডিকেল সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের বৃহত্তম সামরিক হাসপাতাল। এছাড়া গ্রাফেনভোর, ভিলসেক ও হোহেনফেলসে রয়েছে বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ভিসবাডেন ঘাঁটি ইউরোপ ও আফ্রিকায় স্থলবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

স্নায়ুযুদ্ধের পর এই ঘাঁটিগুলোর ভূমিকা বদলে গেছে। বর্তমানে ইরাক, আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ইরান সংকটে রসদ সরবরাহ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

ট্রাম্পের পুরোনো কৌশল

সৈন্য প্রত্যাহারের এই হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালেও তিনি জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে সৈন্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সে সময় কংগ্রেসের বিরোধিতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা কার্যকর হয়নি।

বর্তমানে ইতালি, যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনা রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, ইউরোপে স্থায়ী সেনা সংখ্যা ৭৫ হাজারের নিচে নামানো যাবে না।

সৈন্য কমালে কার ক্ষতি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জার্মানি থেকে সৈন্য সরানো মানে কেবল ইউরোপের নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বৈশ্বিক শক্তিই খর্ব হওয়া। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র অনিতা হিপার বলেন, ইউরোপে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন আমেরিকার বৈশ্বিক স্বার্থেই প্রয়োজন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির জেফ রাথকে মনে করেন, এই উপস্থিতি কোনো ‘দান’ নয়। তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকাকে পরিকাঠামো দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র সেই সুযোগে বিশ্বজুড়ে তার সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সৈন্য কমালে দেশটির বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতাই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow