জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী: রাজধানীর ১৬ স্থানে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী এবং উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তার হাতে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি মোতাবেক শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক ডা. এ
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী এবং উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তার হাতে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি মোতাবেক শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে সেখানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
এদিন বিকালে রাজধানীর জুরাইনে রেলগেইট এলাকায় খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নগরবাসীকে ঢাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টিভির পর্দায় যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একবারও মনে হয় না, আমাদের রাস্তাঘাট এত নোংরা কেনো? আমার কিন্তু হিংসা হয় যে বিদেশের রাস্তাঘাট এত পরিষ্কার; দেশেরগুলোর কেন নয়? বিদেশে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি সেদেশের জনগণও যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে না।’
নগরবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সরকারের কেউ নন। কিন্তু আপনি চেষ্টা করবেন আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলতে। আজ যদি মনে করেন যে আবর্জনাটা ফেলছেন, তা পরিমাণে বেশি নয়। আগামীকাল সেটিই জমে দ্বিগুণ হবে। প্রত্যেকে যদি এক কেজি করে ময়লা ফেলি, তাহলে প্রায় ১০ হাজার কেজি অর্থাৎ ১০ টন জমা হয়ে যাবে। আমরা যদি প্রত্যেকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলি তাহলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিষ্কার করাও সহজ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও তো মানুষ। সারাদিন রোদ, ধূলা, গরম এবং যানবহনের কালো ধোঁয়া ও হর্নের মধ্যে ময়লা পরিষ্কার করতে তাদেরও কষ্ট হয়। ফলে আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে নিজের শহরটাকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়লা টিস্যু পেপার বা কাগজ পকেটে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। বাদাম খেয়ে খোসাটা পর্যন্ত যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। এই দেশকে সুন্দরভাবে সামনে এগিয়ে নিতে প্রত্যেককে পরিশ্রম করতে হবে। প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। আসুন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে আমরা শপথ নিই, দেশটাকে সকলে মিলে গড়ে তোলার।’
এদিন ঢাকার আরও ১৫টি স্পটে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ’র টিঅ্যান্ডটি কলেজ মাঠে তার এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ, আয়ুর্বেদী কলেজের উল্টো পাশে, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুডিল বিশ্বরোড বাস স্ট্যান্ড, ফুজি ট্রেড সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত বস্ত্র ও খাবার কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
এরপর মালিবাগের তালতলার জোড় পুকুর খেলার মাঠ, শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাসের বাসভবনের সামনে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, বাংলাবাজারে যুবদল কার্যালয়ের সামনে, ধোলাইখাল লিংক রোড, যাত্রাবাড়ির শহীদ ফারুক সড়কে এবং ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের বাস স্ট্যান্ডের সামনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষ বিকালে ধানমন্ডি এলাকায় দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করে বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। আপনারা জানেন, শহীদ জিয়া শাহাদাত বরণের পরে থেকে আমরা চেষ্টা করি এই দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, দলের পক্ষ থেকে শুধু নয়, আপনাদের যাদের পক্ষে সম্ভব, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চেষ্টা করবেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।’
কুড়িল এলাকায় দুস্থ মানুষদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশের সেবা করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একইসঙ্গে তিনি আমাদের দীক্ষা দিয়ে গেছেন কীভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয় এবং দেশকে গঠন করতে হয়।’
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর গুলশান এভিনিউ’র বাসভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারবর্গ, বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, মেঝো বোন সেলিনা ইসলামসহ আত্মীয়স্বজন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা, এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরা অংশ নেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
জিয়ার সমাধিতে নেতা-কর্মীদের ঢল
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে জিয়া উদ্যানে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকেই জিয়া উদ্যোনের চারপাশে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, বিজয় সরণি থেকে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
এছাড়াও জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জেডআরএফ’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, কৃষিবিদ বয়জার রহমান, শফিউল আলম দিদার ও ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল প্রমুখ। এছাড়া জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ।
এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সহসম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী আবুল বাশার। এ সময় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সেই আদর্শকে ধারণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার প্রদশিত পথ ও আর্দশকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব, এ্যাব, ওলামা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দিবসটি উপলক্ষে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোয় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
What's Your Reaction?