জিয়াউল আহসানকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনটি মঞ্জুর করেন। আদাবর থানায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এর একটি মামলার সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই আবেদন করা হয়। দুদকের উপপরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিয়াউল আহসানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো জরুরি। অন্যথায় তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করা বা আলামত নষ্টের ঝুঁকি রয়েছে এবং তিনি পলাতক হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজ হিসাবে ৫৫ হাজা

জিয়াউল আহসানকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

আদাবর থানায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এর একটি মামলার সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই আবেদন করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিয়াউল আহসানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো জরুরি। অন্যথায় তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করা বা আলামত নষ্টের ঝুঁকি রয়েছে এবং তিনি পলাতক হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজ হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তার নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব অর্থ তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে নিজ পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেই এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে উঠে আসে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা রুজু করে।

দুদকের প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশন গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মামলাটি দায়েরের অনুমোদন দেয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ থেকে এ মামলা রুজু করা হয়।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জিয়াউল আহসানকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট মামলায় জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।

এমডিএএ/এসএনআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow