জীবনের শেষবেলায়ও ভোটকেন্দ্রে শ্রীমতি ও ফুলমতি

শরীরের বার্ধক্য আর বাঁকা হয়ে যাওয়া কোমরও দমাতে পারেনি তাদের। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে আর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে শারীরিক সব কষ্ট উপেক্ষা করে কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন দুই বৃদ্ধা। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নে এই অদম্য দৃশ্যের দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদিতমারীর এস কে রেজী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮০ বছর বয়সি শ্রীমতি বালা এবং বিকেল আড়াইটায় একই গ্রামের ফুলমতি বালার ভোট প্রদানের ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২টার দিকে মাজিপাড়া এলাকা থেকে লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে আসছেন শ্রীমতি বালা। তিনি বলেন, সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আর জনপ্রতিনিধিরা যেন শেষ বয়সে বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ান, এই প্রত্যাশাতেই তার ভোট দেওয়া। স্থানীয় ভোটার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর আকেন্দ্রের মাঠ যখন কিছুটা ফাঁকা, তখন এই দুই বৃদ্ধার আগমন সবাইকে অবাক করেছে। তাদের এই অদম্য ইচ্ছা তরুণ ভোটারদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আগত সাধারণ ভোটাররাও। ভোট

জীবনের শেষবেলায়ও ভোটকেন্দ্রে শ্রীমতি ও ফুলমতি

শরীরের বার্ধক্য আর বাঁকা হয়ে যাওয়া কোমরও দমাতে পারেনি তাদের। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে আর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে শারীরিক সব কষ্ট উপেক্ষা করে কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন দুই বৃদ্ধা। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নে এই অদম্য দৃশ্যের দেখা মিলেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদিতমারীর এস কে রেজী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮০ বছর বয়সি শ্রীমতি বালা এবং বিকেল আড়াইটায় একই গ্রামের ফুলমতি বালার ভোট প্রদানের ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২টার দিকে মাজিপাড়া এলাকা থেকে লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে আসছেন শ্রীমতি বালা। তিনি বলেন, সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আর জনপ্রতিনিধিরা যেন শেষ বয়সে বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ান, এই প্রত্যাশাতেই তার ভোট দেওয়া।

স্থানীয় ভোটার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর আকেন্দ্রের মাঠ যখন কিছুটা ফাঁকা, তখন এই দুই বৃদ্ধার আগমন সবাইকে অবাক করেছে। তাদের এই অদম্য ইচ্ছা তরুণ ভোটারদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আগত সাধারণ ভোটাররাও।

ভোট দেওয়া শেষে উচ্ছ্বসিত শ্রীমতি বালা বলেন, ভোট দিতে এসে খুব কষ্ট হয়েছে, শরীর চলে না। তবুও আনন্দ লাগছে। বয়স অনেক হয়েছে, জীবনে আর ভোট দিতে পারব কি না জানি না, তাই সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসলাম। অনেকে বলেছিল কেন্দ্রে মারামারি হবে, তাই প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখলাম পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে, পরিবেশ খুব শান্ত। শেষ বয়সে এসে ভোটটা হাতছাড়া করতে চাইনি।

অন্যদিকে, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ভোট দিতে আসা একই গ্রামের ফুলমতি বালা বলেন, জীবনে অনেকবার ভোট দিয়েছি, কিন্তু এবারের ভোটটা অন্যরকম ভালো লাগছে। শরীর অসুস্থ, কোমরে ভাঁজ পড়ে গেছে, তবুও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এসেছি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুব শান্তি লাগছে।

মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/এমএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow