জীবন পরিবর্তনে খাঁটি অন্তরে তওবা

মানুষ স্বভাবতই ভুল ও পদস্খলনের শিকার হয়। গুনাহ ও পাপ মানুষের স্বভাবগত বিষয়। মানুষ মাত্রই ভুল হবে, পাপ হবে। তবে যারা গুনাহর কারণে লজ্জিত হয়, আল্লাহর দরবারে অশ্রু বর্ষণ করে, কাকুতি-মিনতি সহকারে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে, ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, মহান রবের কাছে আত্মসমর্পণ করে—তারাই উত্তম মানুষ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরা উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২৫১) তওবার বিনিময়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের গুনাহ ও পাপ মোচন করেন। এটি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এর মাধ্যমে গুনাহের কালিমা থেকে পবিত্র হওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের তওবার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়ার পথ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, খাঁটি তওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। নবী ও তার সঙ্গে যারা ইমান এনেছে, তাদের সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না।’ (সুরা তাহরিম: ৮)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য।’ (ইবন

জীবন পরিবর্তনে খাঁটি অন্তরে তওবা

মানুষ স্বভাবতই ভুল ও পদস্খলনের শিকার হয়। গুনাহ ও পাপ মানুষের স্বভাবগত বিষয়। মানুষ মাত্রই ভুল হবে, পাপ হবে। তবে যারা গুনাহর কারণে লজ্জিত হয়, আল্লাহর দরবারে অশ্রু বর্ষণ করে, কাকুতি-মিনতি সহকারে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে, ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, মহান রবের কাছে আত্মসমর্পণ করে—তারাই উত্তম মানুষ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরা উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২৫১)

তওবার বিনিময়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের গুনাহ ও পাপ মোচন করেন। এটি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এর মাধ্যমে গুনাহের কালিমা থেকে পবিত্র হওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের তওবার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়ার পথ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, খাঁটি তওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। নবী ও তার সঙ্গে যারা ইমান এনেছে, তাদের সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না।’ (সুরা তাহরিম: ৮)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)

তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ আমলে আত্মনিয়োগ করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অনেক মানুষ তওবা কাকে বলে, এ কথাই জানে না। অনেকের ধারণা এটি একটি রেওয়াজ মাত্র। মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে কোনো একজন আলেমের মাধ্যমে তওবা বাক্য পড়িয়ে দিলেই তওবা হয়ে যায়। কেউ কেউ মুমূর্ষু রোগীদের কাছে আলেমদের নিয়ে বলেন, তার (রোগীর) কানে কানে তওবা পড়ে ফুঁ দিয়ে দেন। এ ধরনের ঘটনা সমাজে প্রতিনিয়তই ঘটে। এর কারণ হলো, তওবা আসলে কী, তা কীভাবে করতে হয়ে, এ ব্যাপারে সঠিক ধারণা নেই।

তওবার পরিচয় মেলে রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবদুল্লাহ (রা.)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। আমি তাকে বলতে শুনলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অনুতপ্ত হওয়াই তওবা।’ আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি নিজে কি নবী (সা.)কে বলতে শুনেছেন যে অনুতপ্ত হওয়াই তওবা? তিনি বলেন, হ্যাঁ। (ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)। এ থেকে বোঝা যায়, কৃত পাপের ওপর অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার নামই তওবা। কারণ, মানুষ তখনই কোনো কাজে অনুতপ্ত হয় যখন সে বুঝতে পারে, কাজটি করা তার জন্য ঠিক হয়নি। তখন সে তার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইসলামের পরিভাষায়, শরিয়তবহির্ভূত নিষিদ্ধ কাজ ত্যাগ করে ইসলাম নির্দেশিত কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহর পথে ফিরে আসা, ভবিষ্যতে কোনো পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে আল্লাহর বিধানের ওপর অটল-অবিচল থাকাকে তওবা বলা হয়। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ মানুষকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো কোনো আয়াতে তওবাকে আখ্যা দিয়েছেন সফলতার সূত্র হিসেবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমার সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা নুর: ৩১)

পাপ ও গুনাহের ওপর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ আর না করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর জন্য তওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে তওবার পদ্ধতিও জানিয়ে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম (গুনাহ) করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না। এরা তারাই, যাদের পুরস্কার হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬)। রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ: ১৩৯৫)

অবশ্য অন্যের হক নষ্ট করার ক্ষেত্রে তার হক আদায় করা ছাড়া তওবা কবুল হবে না। তাই কারও হক নষ্ট করে থাকলে তার হক আদায় করা ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়া তওবার পূর্বশর্ত। এ ছাড়া তওবার আরও কিছু শর্ত আছে। যেমন—১. কৃত পাপকাজের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, কাজটিকে প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করা; ২. পাপকাজ সম্পূর্ণ পরিহার করা; ৩. ভবিষ্যতে পাপকাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা; ৪. বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তা আদায় করা; ৫. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তওবা করা; পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়।

মহান আল্লাহ আমাদের খাঁটিভাবে তওবা করে পরিশুদ্ধ ইমানদার হিসেবে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার তওফিক দান করুন।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow