জুলাইয়ের অন্যতম শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগানে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ‘ওয়াসিম আকরাম’ এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। ওই ঘটনায় ওয়াসিমসহ আরও তিনজন নিহত হন। ওয়াসিম আকরামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকায়। প্রবাসী শফিউল আলম ও জোসনা আক্তার দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন ওয়াসিম। স্বপ্নবাজ এই তরুণের জীবন সেদিন থেমে গেলেও তার আত্মত্যাগ আজও স্মরণ করেন অসংখ্য মানুষ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওয়াসিমের মা জোসনা আক্তার। সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। ওয়াসিমের কিনে দেওয়া স্মার্টফোনটি এখনও বুকের কাছে আগলে রেখেছেন তিনি। কখনও ফোনটির দিকে তাকিয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, ‘এই ফোনে আর ছেলের কল আসে না।’ যে হেডফোনে ছেলের কণ্ঠ শুনতেন, সেটিও এখন শুধুই স্মৃতির সাক্ষী। ছেলের সঙ্গ

জুলাইয়ের অন্যতম শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগানে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ‘ওয়াসিম আকরাম’ এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। ওই ঘটনায় ওয়াসিমসহ আরও তিনজন নিহত হন। ওয়াসিম আকরামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকায়। প্রবাসী শফিউল আলম ও জোসনা আক্তার দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন ওয়াসিম। স্বপ্নবাজ এই তরুণের জীবন সেদিন থেমে গেলেও তার আত্মত্যাগ আজও স্মরণ করেন অসংখ্য মানুষ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওয়াসিমের মা জোসনা আক্তার। সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। ওয়াসিমের কিনে দেওয়া স্মার্টফোনটি এখনও বুকের কাছে আগলে রেখেছেন তিনি। কখনও ফোনটির দিকে তাকিয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, ‘এই ফোনে আর ছেলের কল আসে না।’ যে হেডফোনে ছেলের কণ্ঠ শুনতেন, সেটিও এখন শুধুই স্মৃতির সাক্ষী। ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি স্মরণ করে জোসনা আক্তার জানান, ঘটনার আগের রাতেও ওয়াসিম ফোন করে বলেছিলেন, ‘মা, খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরব।’ কথাটি সত্যি হয়েছিল। তবে জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। এমন ফিরে আসা কোনো মায়েরই কাম্য নয়। সেই শোকের ভার আজও নীরবে বহন করছে পুরো পরিবার। ২০১৭ সালে মেহেরনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুর সময় তিনি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন ওয়াসিম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন। ওয়াসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও স্থানীয় মানুষ নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের হত্যার বিচার এবং তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের দাবিও জানাচ্ছেন তারা। দুই বছর পরও ওয়াসিমের রক্তের দাগ হয়তো রাজপথ থেকে মুছে গেছে, কিন্তু একজন মায়ের বুকের ক্ষত আজও শুকায়নি। সন্তানের শূন্যতা, অপূর্ণ স্বপ্ন আর ন্যায়বিচারের অপেক্ষা মিলেমিশে ওয়াসিম আকরামের নামকে পরিণত করেছে গভীর বেদনার প্রতীকে। তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow