জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জামায়াতের
‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ এবং ‘গণভোট’ নিয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট পিটিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সরকারের ইন্ধন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে জাতীয় সংসদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়কে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরে না আসে, সেজন্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে, সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে আদালতের কাঁধে ঠেলে দিয়ে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে গিয়ে দেশে ১৬ বছরের দীর্ঘ জাতীয় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশবাসী আ
‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ এবং ‘গণভোট’ নিয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট পিটিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সরকারের ইন্ধন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে জাতীয় সংসদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়কে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরে না আসে, সেজন্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে, সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে আদালতের কাঁধে ঠেলে দিয়ে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে গিয়ে দেশে ১৬ বছরের দীর্ঘ জাতীয় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশবাসী আর দেখতে চায় না।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির ব্রিফিংয়ে আইনি বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, দুটি রিট পিটিশনের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
শিশির মনির বলেন, গণভোট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করার অর্থ হলো জনগণের ফলাফলকেই চ্যালেঞ্জ করা। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হতে মাত্র ১০ দিন বাকি। এই সময়ে তড়িঘড়ি করে রিট করার পেছনে আমি স্পষ্টত সরকারের ইন্ধন লক্ষ্য করেছি। উদ্দেশ্য হলো বিষয়টিকে ‘সাব-জুডিস’ বা বিচারাধীন দেখিয়ে সংসদকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেওয়া।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির যুক্তি দেন যে, উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়গুলো আদালতের বিবেচনার বাইরে থাকে, যাকে ‘ডকট্রিন অব পলিটিক্যাল কোয়েশ্চন’ বলা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘৫ আগস্টের বিপ্লব বা অন্তর্বর্তী সরকার কি আদালতের নিয়ম মেনে হয়েছে? যদি গণভোট অবৈধ হয়, তবে একই দিনে একই ব্যালটে হওয়া জাতীয় নির্বাচন কেন অবৈধ হবে না? কেন শুধু সুবিধাজনক অংশটুকু রাখা হচ্ছে আর অসুবিধাজনক অংশ বাতিলের দাবি উঠছে?
তিনি বর্তমান বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যদি জুলাই সনদ বা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো আদেশই বৈধ না হয়, তবে এই সরকারের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়বে। একটি বিপ্লব-পরবর্তী চার্টারকে অপ্রাসঙ্গিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি ভুল হিসেবে গণ্য হবে।
ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।