জুলাই ডকুমেন্টারি ঘিরে বিতর্ক, উপেক্ষিত আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডকুমেন্টারিতে ছাত্রদল নেতাদের অন্তর্ভুক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অবদান উপেক্ষা করে একপাক্ষিক উপস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনসহ ছাত্রদলের কার্যক্রমকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ডকুমেন্টারিটি একেবারেই একপাক্ষিক হয়ে গেছে। জানা যায়, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী উপ-কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নোবিপ্রবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবদান তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ডকুমেন্টারিটিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সাদা দলের সভাপতি ও নোবিপ্রবি উপ-উপাচা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডকুমেন্টারিতে ছাত্রদল নেতাদের অন্তর্ভুক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অবদান উপেক্ষা করে একপাক্ষিক উপস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনসহ ছাত্রদলের কার্যক্রমকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ডকুমেন্টারিটি একেবারেই একপাক্ষিক হয়ে গেছে।
জানা যায়, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী উপ-কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নোবিপ্রবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবদান তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ডকুমেন্টারিটিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সাদা দলের সভাপতি ও নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের ছবি ও ভিডিও বক্তব্য প্রদর্শন করা হলেও, জুলাই আন্দোলনের মূল সারির শিক্ষক জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্য সচিব ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ.এফ.এম আরিফুর রহমান, জামায়াতপন্থি ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল করিম এবং জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষকদের কোনো ছবি বা ভিডিও তুলে ধরা হয়নি।
এছাড়াও ডকুমেন্টারিতে ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের ভিডিও বক্তব্য প্রদর্শন করা হলেও নোয়াখালী জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য আহ্বায়ক ও নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান আরিফ, সদস্য সচিব ও এমআইএস বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী বনী ইয়ামিন, বর্তমান নোবিপ্রবি শাখা সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম সৈকত, ছাত্রশিবিবের সাধারণ সম্পাদক ও এসিসিই বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান, শাখা বায়তুলমাল সম্পাদক মেহেদী হাসান, শিবিরের সাবেক নেতা ও ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের জানে আলম, জাতীয় ছাত্রশক্তির নোয়াখালী জেলার সদস্য সচিব ও আইআইটি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সীমান্তর গ্রুপ ছবি প্রদর্শন করা হলেও কোনো ভিডিও বক্তব্যের ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিজিই বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন মহসিন, ফলিত গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের জাহিদ হাসান, এসিসিই বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানেরও কোন বক্তব্যের ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়নি।
তাছাড়া জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম শহীদ ওসমান হাদি, স্কুল শিক্ষার্থী শহীদ আনাসের কোনো ক্লিপই রাখা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজক উপ-কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক (বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য) এবং নোবিপ্রবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। তবে নতুন কর্মস্থলে বদলি হয়ে যাওয়ার পর আহ্বায়ক করা হয় নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে।
এছাড়া উপ-কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন- আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট ফয়েজ আহমেদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন আল ফয়সল, কম্পিউটার অপারেটর আব্দুর রহিম। কমিটিতে সদস্য সচিব ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এমডি. মাসুদ রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানের সময় নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নোয়াখালীতে যেসব শিক্ষক সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে আমি একজন। কিন্তু যে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে সেখানে অন্যান্য শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরা হলেও আমার একটি ছবি পর্যন্ত দেখানো হয়নি। দল-মতের ঊর্ধ্বে ওঠে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করতে না পারা আমাদের জন্য লজ্জার।’
এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘যেই ডকুমেন্টারি বানিয়েছে সেটাতে ওনাদের নিজেদের এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য এবং আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে ও মুক্তিযুদ্ধের মত শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বর্গের অবদান হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে রাখলাম।’
ডকুমেন্টারির অসংগতির বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক ও নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দিন বলেন, আমাকে ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হলেও সেখানে কাদের কাদের অবদান তুলে রাখা হয়েছে, সেটা কমিটির অন্য ব্যক্তিরা ঠিক করেছিলেন। কেননা, আমি কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি, যার কারণে এখানকার কোনো কোনো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদান বেশি, সেটা আমি জানি না। ভিডিওতে কিছু ছোটোখাটো ভুল দেখেছিলাম, যেটা আমি আর উপাচার্য মহোদয় মিলে ঠিক করতে বলেছিলাম।
এক পাক্ষিক ডকুমেন্টারির বিষয়ে জানতে চাইলে জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাকে কয়েকজন বলেছিল। যেখানে আমাদের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদান তুলে ধরা হয়নি। ডকুমেন্টারি কমিটিতে যারা ছিলেন তারা এ বিষয়ে ভালো জানবেন। তবে সামনে থেকে এসব বিষয়ে যাতে কোনো অসংগতি না থাকে সেটা আমরা দেখব।
কেএইচকে/জেআইএম
What's Your Reaction?