জেনায় লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা কবুল হয় কি?

শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষ নিজেকে ভুলে গন্তব্য হারায়, বড় বড় পাপে লিপ্ত হয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই জেনার (অবাধ মেলামেশা বা ব্যভিচার) মতো ভয়াবহ পাপে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই পাপ করার পর যখন মনে অনুশোচনা জাগে, তখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, এই পাপের কি ক্ষমা আছে? আল্লাহ কি তওবা কবুল করবেন? কারণ জেনার মতো পাপে লিপ্ত হওয়ার পর যখন কোনো ঈমানদার ব্যক্তি অনুতপ্ত হন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমতের আশা কখনো ছেড়ে দিও না, কখনো নিরাশ হবে না’। (সুরা জুমার: ৫৩) আল্লাহ আরও জানিয়েছেন যে, তিনি বান্দার সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং পৃথিবীতে এমন কোনো পাপ নেই যা ক্ষমার অযোগ্য। এমনকি কেউ যদি শিরকের মতো ভয়াবহ পাপও করে থাকে এবং মৃত্যুর আগে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাকেও মাফ করে দেন। তাওবা কবুলের শর্তসমূহ পাপ হয়ে যাওয়ার পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। জেনায় লিপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে নিম্নোক্ত কাজগুলো করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার গোনাহ মাফ

জেনায় লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা কবুল হয় কি?

শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষ নিজেকে ভুলে গন্তব্য হারায়, বড় বড় পাপে লিপ্ত হয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই জেনার (অবাধ মেলামেশা বা ব্যভিচার) মতো ভয়াবহ পাপে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

এই পাপ করার পর যখন মনে অনুশোচনা জাগে, তখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, এই পাপের কি ক্ষমা আছে? আল্লাহ কি তওবা কবুল করবেন? কারণ জেনার মতো পাপে লিপ্ত হওয়ার পর যখন কোনো ঈমানদার ব্যক্তি অনুতপ্ত হন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করার চেষ্টা করে।

কিন্তু পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমতের আশা কখনো ছেড়ে দিও না, কখনো নিরাশ হবে না’। (সুরা জুমার: ৫৩)

আল্লাহ আরও জানিয়েছেন যে, তিনি বান্দার সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং পৃথিবীতে এমন কোনো পাপ নেই যা ক্ষমার অযোগ্য। এমনকি কেউ যদি শিরকের মতো ভয়াবহ পাপও করে থাকে এবং মৃত্যুর আগে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাকেও মাফ করে দেন।

তাওবা কবুলের শর্তসমূহ

পাপ হয়ে যাওয়ার পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। জেনায় লিপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে নিম্নোক্ত কাজগুলো করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার গোনাহ মাফ করবেন:

  • নিজের পাপের গুরুত্ব বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  • কৃতকর্মের জন্য মনে গভীর অনুশোচনা পোষণ করা।
  • ভবিষ্যতে আর কখনো সেই পথে পা না বাড়ানোর জন্য দৃঢ় সংকল্প করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান হিসেবে মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কমবেশি সবারই গোনাহ হয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ভুল করার পর তওবা করেন, আত্মশুদ্ধি করেন এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসেন।

বর্তমানে তরুণ সমাজের মধ্যে আত্মহত্যার যে উচ্চ প্রবণতা দেখা যায়, তার মূলে রয়েছে আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থার অভাব বা নৈরাশ্য। বৈষয়িক উন্নতি হলেও ঈমানি শক্তির অভাবে অনেকে মনে করেন যে তাদের বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। কিন্তু একজন প্রকৃত ঈমানদার কখনো আশাহত হন না; দেয়ালের পিঠ ঠেকে গেলেও তিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ তাকে হেফাজত করবেন।

মোটকথা, জেনা একটি জঘন্য পাপ, তবে আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত তার চেয়েও অনেক বড়। যদি কেউ আন্তরিকভাবে তওবা করে ফিরে আসতে চায়, তবে আল্লাহর রহমতের দুয়ার তার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। হতাশা নয়, বরং অনুশোচনা ও আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই মুক্তি সম্ভব।

ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর বয়ান থেকে শ্রুতি লিখন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow