জেনে রাখুন স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গ

স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তস্রাব একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে এবং দ্রুত শনাক্ত না হলে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত মানুষ স্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে; কিন্তু অনেক সময় উপযুক্ত চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে যায়। বিশেষ করে মাঝবয়সী ও বয়স্ক মানুষদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, তবে কখনো এটি যুবকদের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। স্ট্রোক শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, এটি মানসিক ও আর্থিকভাবে পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারে। হঠাৎ হাত বা পা কাজ না করা, কথা বলতে না পারা বা হঠাৎ মাথাব্যথা—এসবই হতে পারে স্ট্রোকের সংকেত। তাই এই উপসর্গগুলো চিনে রাখা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা অনেক সময় মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গ জানা থাকলে, আপনি নিজে বা পরিবারের কারও জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছে জীবন রক্ষা করতে পারেন। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণ পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে স্ট্রোকের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো: - হঠাৎ করে মুখ, হাত বা পায়ে ঝাপসা বা দুর্বলতা, বিশেষ করে শরীরের

জেনে রাখুন স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গ

স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তস্রাব একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে এবং দ্রুত শনাক্ত না হলে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত মানুষ স্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে; কিন্তু অনেক সময় উপযুক্ত চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে যায়।

বিশেষ করে মাঝবয়সী ও বয়স্ক মানুষদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, তবে কখনো এটি যুবকদের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। স্ট্রোক শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, এটি মানসিক ও আর্থিকভাবে পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারে। হঠাৎ হাত বা পা কাজ না করা, কথা বলতে না পারা বা হঠাৎ মাথাব্যথা—এসবই হতে পারে স্ট্রোকের সংকেত।

তাই এই উপসর্গগুলো চিনে রাখা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা অনেক সময় মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গ জানা থাকলে, আপনি নিজে বা পরিবারের কারও জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছে জীবন রক্ষা করতে পারেন।

স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণ

পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে স্ট্রোকের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

- হঠাৎ করে মুখ, হাত বা পায়ে ঝাপসা বা দুর্বলতা, বিশেষ করে শরীরের এক পাশের অংশে।

- হঠাৎ বিভ্রান্তি, কথা বলার অসুবিধা বা অন্যের কথা বোঝার সমস্যা।

- হঠাৎ এক বা দুই চোখে দৃষ্টি সমস্যা।

- হঠাৎ হাঁটতে সমস্যা, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা সমন্বয়হীনতা।

- কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা।

যদি আপনার বা অন্য কারও এসব উপসর্গ দেখা দেয়, যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা সহায়তা নিন।

জরুরি সাহায্য কখন নিতে হবে

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে F.A.S.T. পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি ধাপ দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে:

F—Face (মুখ): ব্যক্তিকে হাসতে বলুন। মুখের কোনো একপাশ ঝুলে আছে কি না দেখুন।

A—Arms (হাত): দুটো হাত উঁচু করার জন্য বলুন। কোনো এক হাত নিচে নামছে কি না দেখুন।

S—Speech (কথা): সহজ কোনো বাক্য বলতে বলুন। কথা অস্পষ্ট বা অদ্ভুত হচ্ছে কি না দেখুন।

T—Time (সময়): যদি কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে কল করুন। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় নোট করুন, এটি চিকিৎসককে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ: নিজে বা অন্য কাউকে ড্রাইভ করে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন না। অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন, যাতে চিকিৎসকরা পথে থেকেই জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বা ‘মিনি স্ট্রোক’

কিছু ক্ষেত্রে স্ট্রোকের উপসর্গ কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে যেতে পারে। এটিকে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বা মিনি স্ট্রোক। যদিও এটি স্বল্প সময়ের জন্য হয়, তবে এটি একটি গুরুতর সমস্যার সতর্কতা।

TIA অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কারও TIA-এর লক্ষণ দেখা দেয়, দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

স্ট্রোক হলো সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ। দ্রুত শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা পাওয়া জীবন বাঁচাতে পারে। শরীরের হঠাৎ কোনো পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন। নিজের বা পরিবারের কারও জন্য সচেতন থাকা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতন হওয়া, লক্ষণ জানার চেষ্টা করা এবং F.A.S.T. পদ্ধতি মেনে চলা—এগুলোই হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদক্ষেপ।

সূত্র্র : CDC

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow