‘জেলখানায় থেকেও কীভাবে মামলার আসামি হলাম’, ওসিকে প্রশ্ন আসামির

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খাঁনসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলাটির এজাহারভুক্ত এক আসামি ঘটনার সময় জেলখানায় বন্দি ছিলেন এমন একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার (২২ জুন) উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী রবিউল হাসান রাব্বি বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং ঢাকার ধানমন্ডি আনোয়ার খাঁন মডার্ন হসপিটালের মালিক আনোয়ার হোসেন খাঁনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুল হক মিজান, দপ্তর সম্পাদক এমরান হোসেন (ইট বাচ্চু), সাবেক পৌর মেয়র বেলাল আহমেদ, উপজেলা

‘জেলখানায় থেকেও কীভাবে মামলার আসামি হলাম’, ওসিকে প্রশ্ন আসামির

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খাঁনসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলাটির এজাহারভুক্ত এক আসামি ঘটনার সময় জেলখানায় বন্দি ছিলেন এমন একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার (২২ জুন) উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী রবিউল হাসান রাব্বি বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং ঢাকার ধানমন্ডি আনোয়ার খাঁন মডার্ন হসপিটালের মালিক আনোয়ার হোসেন খাঁনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুল হক মিজান, দপ্তর সম্পাদক এমরান হোসেন (ইট বাচ্চু), সাবেক পৌর মেয়র বেলাল আহমেদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম (বিএসসি), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শহীদ চৌকিয়া, যুবলীগ নেতা মোরশেদ আলম বাবু, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সৈকত মাহমুদ সামছু, ইরান পাটোয়ারী, মিলন পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ভূঁইয়া, সাখাওয়াত হোসেন রাজু এবং আবদুল হান্নান বাবুসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

মামলাটি দায়েরের পর গতকাল (২৩ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফোন কলের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার মোড় সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে ঘুরে যায়। এজাহারের ১৪ নম্বর আসামি তুহিন মালিক রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরীকে ফোন করে নিজের বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফোনে তুহিন মালিক ওসিকে বলেন, আমি গত ৩ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ জেলখানায় বন্দি ছিলাম। জেল থেকে বের হয়ে দেখি ১৬ জুনের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ভাঙচুর মামলায় আমাকে ১৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে মামলার আসামি হলাম। জবাবে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তাকে আশ্বস্ত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন আসামিরা ভোলাকোট ইউনিয়নের উদয়পুর এলাকায় অবস্থিত ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে সমবেত হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় বাধা দিতে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে মারধর করা হয়। বাদীর দাবি, একাডেমির আবাসিক হলে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জনরোষকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এর আগে, গত ১৬ জুন ওই একাডেমির আবাসিক হল থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। মোবাইল চুরির অপবাদে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে হল সুপারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই হল সুপারসহ দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাবা জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভাঙচুরের এই মামলার বিষয়টি জানেন না বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। কল রেকর্ডের বিষয়টিসহ সব অভিযোগের সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow