জ্বালানি তেলের অভাবে হারভেস্টার সংকট, দুশ্চিন্তায় মেহেরপুরের কৃষকরা
মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ নেই, মাঠে পাকা গম কাটার মতো প্রস্তুত, কিন্তু ডিজেলের অভাবে হারভেস্টার নামছে না জমিতে। ঝড়-বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া গম ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকের চোখে এখন শুধুই ক্ষতির হিসাব। মেহেরপুর জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট এখন শুধু একটি সরবরাহ সমস্যাই নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে একটি বড় ধরনের কৃষি ও মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। জেলায় মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ১৪টি, আর ৩টি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তবে চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও তেলের সংকট চরমে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে জেলার ১০টি ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন সকালে তেল আনতে গাড়ি পাঠানো হলেও আজ কোনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। তারা আশা করছেন, যদি আগামীকাল তেল আসে, তাহলে হয়তো বুধবার থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে পরিস্থিতি। তবে বর্তমানে ডিপো থ
মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ নেই, মাঠে পাকা গম কাটার মতো প্রস্তুত, কিন্তু ডিজেলের অভাবে হারভেস্টার নামছে না জমিতে। ঝড়-বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া গম ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকের চোখে এখন শুধুই ক্ষতির হিসাব।
মেহেরপুর জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট এখন শুধু একটি সরবরাহ সমস্যাই নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে একটি বড় ধরনের কৃষি ও মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। জেলায় মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ১৪টি, আর ৩টি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তবে চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও তেলের সংকট চরমে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে জেলার ১০টি ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ফিলিং স্টেশন মালিক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন সকালে তেল আনতে গাড়ি পাঠানো হলেও আজ কোনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। তারা আশা করছেন, যদি আগামীকাল তেল আসে, তাহলে হয়তো বুধবার থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে পরিস্থিতি। তবে বর্তমানে ডিপো থেকে প্রতিটি পাম্পে সর্বোচ্চ ৩ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়েই প্রতিটি চালু স্টেশনের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫ হাজার লিটার।
এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। সীমান্তবর্তী কৃষিনির্ভর এই জেলায় চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গমের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। চৈত্রের শুরুতেই মাঠজুড়ে পাকা গমের সোনালি শিষ দুলছিল। কিন্তু কয়েকদিনের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে সেই গমের শিষ মাটিতে নুয়ে পড়েছে।
এর মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে হারভেস্টার সংকট। ডিজেলের অভাবে মাড়াই মেশিন মাঠে নামছে না, ফলে পাকা গম সময়মতো ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা।
শুধু ফসল কাটাই নয়, তেলের অভাবে সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় জমিতে পানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন, যেখানে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪.১ টন।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের এই সংকট পরিবহন খাত ছাড়িয়ে সরাসরি কৃষকের জীবনে আঘাত হেনেছে। মাঠে পাকা ফসল থাকলেও তা ঘরে তুলতে না পারার বেদনা এখন মেহেরপুরের হাজারো কৃষকের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক আনসার আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগেই আমার গম কাটার উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু মেশিন না পাওয়ায় গম মাঠেই শুকাতে শুরু করেছে। এর মধ্যে আবার আকাশে মেঘ জমায় তার দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
একই গ্রামের কৃষক লিটন আহমেদ বলেন, হারভেস্টার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা ফোন ধরছেন না। তাদের দাবি, ডিজেল না থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে গম মাড়াইয়ে বর্তমানে বিঘাপ্রতি ২৫০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে, যেখানে গত বছর এই খরচ ছিল ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা।
আরেক কৃষক মজিদ আহমেদ বলেন, ঈদের আগেই আমার গম কাটার উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু মাড়াইয়ের মেশিন না পাওয়ায় কাটতে পারেননি। এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক গম মাটিতে পড়ে গেছে। এখন মেশিন না পেলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে। শ্রমিক দিয়েও কাটার সুযোগ নেই, কারণ অধিকাংশ শ্রমিক এখন ইটভাটায় কাজ করছেন।
হারভেস্টার মেশিন মালিক জমির উদ্দিন বলেন, তেল না থাকলে মেশিন চালানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে বেশি দামে মজুতদারদের কাছ থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, এতে তারও লোকসান হচ্ছে। একইসঙ্গে বেশি খরচের কারণে কৃষকদের কাছ থেকেও বেশি টাকা নিতে হচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ছেন তারা।
What's Your Reaction?