জ্বালানি সংকটে বিপাকে লাইটার জাহাজ, বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেল গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আমদানি–রফতানি বাণিজ্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা ব্যবসায়ীদের। বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বন্দরের কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। এতে রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বিলম্বিত হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া গুনতে হবে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব

জ্বালানি সংকটে বিপাকে লাইটার জাহাজ, বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেল গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আমদানি–রফতানি বাণিজ্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বন্দরের কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। এতে রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বিলম্বিত হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া গুনতে হবে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে বাজারদরেও।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরেও বড় জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করে নদীপথে দেশের বিভিন্ন ঘাটে পাঠানো হয়। এ কাজে প্রায় দেড় হাজার লাইটার জাহাজ নিয়োজিত রয়েছে। তবে ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব জাহাজের চলাচলেও প্রভাব পড়ছে।
লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো–অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ ৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। 

বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমাদের অনেক জাহাজ বসে আছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি লাইটার জাহাজ পণ্য পরিবহনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। একটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক জাহাজ প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় গন্তব্যে যেতে পারছে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। আশাকরি আমরা একটা ভালো সমাধান পাবো।

চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব ডিপোতে রফতানি পণ্য সংরক্ষণ, কনটেইনারে ভরার কাজ এবং আমদানি কনটেইনার খালাসের জন্য প্রায় এক হাজার পরিবহন যান ও ২৫০টির মতো যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানিগুলো চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে ডিপোগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে অপারগতার কথা জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি বলেন, তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকে মজুদকৃত তেল বাজারে ছাড়ছে না। দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে। আশা করা যায়, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে আগত খাদ্যশস্য, সার ও শিল্প কাঁচামালবাহী বড় জাহাজের বড় অংশই জেটিতে ভিড়তে পারে না। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খোলা পণ্যবাহী জাহাজ কুতুবদিয়া ও বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা হয়।

প্রায় ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪টি লাইটার জাহাজ প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে কুতুবদিয়া ও বহির্নোঙর এলাকায় প্রতিদিন ১০০ থেকে ১১০টি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি লাইটার জাহাজ ব্যবহৃত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হবে, যার প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি–রফতানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও বাজার সরবরাহ ব্যবস্থায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow