ঝগড়া থামাতে গিয়ে যুবক নিহত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুপক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক প্রতিবেশীও মৃত্যুবরণ করেছেন।  সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক ওই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে সোহেল রানা (৩৫) ও প্রতিবেশি মঞ্জু মিয়া (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢোলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী চাপারকোনা গ্রামের রনির মাসখানেক আগে পারিবারিকভাবে কাবিন সম্পন্ন হয়। কথা ছিল ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কনে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ শিলা এ বিয়ে অস্বীকার করলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে রনি তার এলাকার মাতব্বর ও বন্ধুদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে শিলাদের বাড়িতে যান। আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনার সময় প্রতিবেশী সোহেল রানা ঘুম থেকে উঠে ঝগড়া থামাতে শিলাদের বাড়িতে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাশের একটি

ঝগড়া থামাতে গিয়ে যুবক নিহত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুপক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক প্রতিবেশীও মৃত্যুবরণ করেছেন। 

সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক ওই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে সোহেল রানা (৩৫) ও প্রতিবেশি মঞ্জু মিয়া (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢোলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী চাপারকোনা গ্রামের রনির মাসখানেক আগে পারিবারিকভাবে কাবিন সম্পন্ন হয়। কথা ছিল ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কনে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ শিলা এ বিয়ে অস্বীকার করলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে রনি তার এলাকার মাতব্বর ও বন্ধুদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে শিলাদের বাড়িতে যান। আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঘটনার সময় প্রতিবেশী সোহেল রানা ঘুম থেকে উঠে ঝগড়া থামাতে শিলাদের বাড়িতে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সোহেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ খবর শুনে তাকে দেখতে গিয়ে মঞ্জু মিয়া নামে এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলেই হার্ট অ্যাটাক করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। একই রাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে। সংঘর্ষে হাসনা বেগম (২০) ও সাহেরা বেগম (২৫) নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

নিহত সোহেলের চাচা দুলাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘সোহেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল। সে কেবল ঝগড়া থামাতে যায়। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।’

সরিষাবাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) বাচ্চু মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow