ঝিনাইদহে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর নাড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক প্রাইভেট হাসপাতালে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পেটের নাড়ি ও শিরা কেটে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আরএমও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে এক লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিন। ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূর জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার দরিদ্র পরিবার। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বল একখণ্ড জমিও। শৈলকুপার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ হোসেন তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন , গত ১৮ মে তার কন্যা মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক প্রাইভেট হাসপাতালে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পেটের নাড়ি ও শিরা কেটে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আরএমও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে এক লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিন।
ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূর জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার দরিদ্র পরিবার। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বল একখণ্ড জমিও।
শৈলকুপার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ হোসেন তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন , গত ১৮ মে তার কন্যা মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে জানান, রোগীর পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে, দ্রুত অপারেশন না করলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হবে। এরপর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে, তার নিজের নির্দেশনায় মিতাকে কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত ‘শৈলকুপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
অভিযোগ করা হয়, ওই রাতেই ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার ডেকে আনা অন্য এক চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিন মিতার পিত্তথলি অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশন চলাকালীন চরম অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে তারা পিত্তথলির আশপাশের বেশ কিছু নাড়ি ও রক্তনালী (শিরা) কেটে ফেলেন। এতে রোগীর পেট থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখেও ডা. মামুন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও রেফার না করে পাঁচ দিন ধরে ওই প্রাইভেট হাসপাতালেই আটকে রেখে চিকিৎসা দিতে থাকেন।
পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে গত ২৩ মে ১১ হাজার টাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করে রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো সিট না পাওয়ায় ওই রাতেই রোগীকে রাজধানীর ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে’ ভর্তি করতে বাধ্য হয় পরিবার। সেখানে দীর্ঘদিন আইসিইউ ও পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে মিতার জীবন রক্ষা পেলেও বেসরকারি ওই হাসপাতালের বিল আসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দরিদ্র বাবার প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার জন্য তাকে নিজের শেষ সম্বল জমিও বিক্রি করতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারদের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে আমার মেয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেছে। তিনি এই কসাই ডাক্তারদের বিচার দাবী করেন। এই ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে মাজেদ হোসেন জানান।
এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন রোগীর স্বাস্থ্যহানির কথা স্বীকার করে জানান, তিনি অপারেশন করেননি। তিনি অজ্ঞানের ডাক্তার হিসেবে ওটিতে ছিলেন। অপারেশন করেছেন রাজবাড়ি জেলার পাংশা এলাকার চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দীন। অপারেশনের জন্য কী ঘটনা ঘটেছে তা ডা. নাসির উদ্দীন বলতে পারবেন বলে জানান।
What's Your Reaction?