ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই বদলে দিলো ভাগ্য: জেফ বেজোসের শীর্ষ ধনী হওয়ার গল্প
জেফ বেজোস বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তার হাত ধরেই অ্যামাজনের যাত্রা শুরু। কিন্তু শুরুতেই তিনি আজকের এই অবস্থানে ছিলেন না। বিশ্বের সবাই এখন অ্যামাজন এবং জেফ বেজোসকে এক নামে চিনলেও এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না। অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য১৯৯৪ সালের ৫ জুলাই জেফ বেজোস সিয়াটলের একটি গ্যারেজে অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বই বিক্রি শুরু করে। ব্যবসা শুরু করার জন্য জেফ বেজোস তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৩ ডলার নিয়েছিলেন। শুরুর দিকে সফলতার নিশ্চয়তা না থাকলেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসেন। তার ঝুঁকি নেওয়ার সাহস আর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই একটি অনলাইন বইয়ের দোকান থেকে শুরু হওয়া অ্যামাজন আজ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও খুচরা বিক্রির এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। পদত্যাগদীর্ঘ ২৭ বছর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালের জুলাই মাসে
জেফ বেজোস বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তার হাত ধরেই অ্যামাজনের যাত্রা শুরু। কিন্তু শুরুতেই তিনি আজকের এই অবস্থানে ছিলেন না। বিশ্বের সবাই এখন অ্যামাজন এবং জেফ বেজোসকে এক নামে চিনলেও এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না।
অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য
১৯৯৪ সালের ৫ জুলাই জেফ বেজোস সিয়াটলের একটি গ্যারেজে অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বই বিক্রি শুরু করে। ব্যবসা শুরু করার জন্য জেফ বেজোস তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৩ ডলার নিয়েছিলেন। শুরুর দিকে সফলতার নিশ্চয়তা না থাকলেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসেন। তার ঝুঁকি নেওয়ার সাহস আর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই একটি অনলাইন বইয়ের দোকান থেকে শুরু হওয়া অ্যামাজন আজ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও খুচরা বিক্রির এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
পদত্যাগ
দীর্ঘ ২৭ বছর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালের জুলাই মাসে তিনি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত আছেন।
বর্তমান সম্পদ
ফোর্বস এবং ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেফ বেজোসের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৮৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ৫ জন ধনীর মধ্যে অন্যতম।
ব্লু অরিজিন ও মহাকাশ গবেষণা
২০০০ সালে জেফ বেজোস মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ব্লু অরিজিন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে তিনি নিজের তৈরি রকেটে চড়ে সফলভাবে মহাকাশ ভ্রমণও করেন। ২০২৬ সালে তার এই প্রতিষ্ঠানটি ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে।
অন্যান্য ব্যবসা ও গণমাধ্যম
২০১৩ সালে তিনি আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দৈনিক সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ কিনে নেন।
এছাড়া জেফ বেজোস আর্থ ফান্ড-এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি আমেরিকার নিউ মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণ করেন জেফ বেজোস। তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
বিয়ে ও বিচ্ছেদ
১৯৯৩ সালে তিনি ম্যাকেঞ্জি স্কটকে বিয়ে করেন। ২০১৯ সালে দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় যা ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ডিভোর্স হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে তিনি মার্কিন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব লরেন সানচেজের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান।
ব্যবসায়িক কৌশল
জেফ বেজোসের ব্যবসায়িক মূলমন্ত্র ছিল গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি দেওয়া, যা আজকের আধুনিক ই-কমার্স জগতের ভিত্তি স্থাপন করেছে। তিনি প্রতিযোগীদের দিকে মনোযোগ না দিয়ে সবসময় ক্রেতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাসী।
দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা
তাৎক্ষণিক লাভের চেয়ে ভবিষ্যতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করার বিষয়টিকেই সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকেন জেফ বেজোস। তিনি ব্যবসাকে সর্বদা একটি নতুন স্টার্টআপের মতো গতিশীল রাখতে চান যেন অলসতা বা স্থবিরতা না আসে। এছাড়া কম দাম ও ভালো সেবার মাধ্যমে গ্রাহক টানা, যা আরও বেশি বিক্রেতাকে আকর্ষণ করে এবং ব্যবসাকে চক্রাকারে বড় করতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যৎ দর্শন
তার লক্ষ্য হলো কোটি কোটি মানুষের মহাকাশে বসবাস এবং পৃথিবীর ভারী শিল্পগুলোকে মহাকাশে স্থানান্তরিত করে পৃথিবীকে রক্ষা করা
আয়ের উৎস
তার সম্পদের মূল উৎস অ্যামাজনের প্রায় ৯-১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা লাইটফিন্যান্স। এছাড়া ব্লু অরিজিন, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং তার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ তহবিল থেকেও প্রতিনিয়ত তার আয় বাড়ছে।
সূত্র: বিবিসি, ব্লুমবার্গ, ফোর্বস
টিটিএন
What's Your Reaction?