টক দই নষ্ট হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

ফ্রিজ থেকে টকদই বের করতেই নাকে এল হালকা ঝাঁঝালো বা তীব্র টক গন্ধ। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই দই কি এখনও খাওয়া নিরাপদ, নাকি নষ্ট হয়ে গেছে? আসলে দইয়ে হালকা টক গন্ধ থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ দই তৈরি হয় দুধে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায়। তবে কখনও কখনও এই ফারমেন্টেশন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে দইয়ের গন্ধ, স্বাদ ও গঠন বদলে যেতে পারে। তাই শুধু গন্ধ নয়, আরও কয়েকটি বিষয় দেখে বোঝা সম্ভব দই খাওয়ার উপযোগী আছে কি না। কেন দইয়ে ঝাঁঝালো গন্ধ হয়? দই তৈরিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যার ফলে দইয়ের পরিচিত টক স্বাদ তৈরি হয়। কিন্তু দই যদি অনেকক্ষণ ফ্রিজের বাইরে থাকে বা কয়েক দিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে ফারমেন্টেশন আরও বাড়তে থাকে। এতে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং দইয়ে তীব্র টক বা ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হতে পারে।তাই হালকা টক গন্ধ মানেই দই নষ্ট হয়ে গেছে, এমনটা নয়। তবে গন্ধ যদি খুব তীব্র হয়, তাহলে অন্য লক্ষণগুলোও পরীক্ষা করা উচিত। স্ব

টক দই নষ্ট হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

ফ্রিজ থেকে টকদই বের করতেই নাকে এল হালকা ঝাঁঝালো বা তীব্র টক গন্ধ। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই দই কি এখনও খাওয়া নিরাপদ, নাকি নষ্ট হয়ে গেছে?

আসলে দইয়ে হালকা টক গন্ধ থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ দই তৈরি হয় দুধে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায়। তবে কখনও কখনও এই ফারমেন্টেশন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে দইয়ের গন্ধ, স্বাদ ও গঠন বদলে যেতে পারে। তাই শুধু গন্ধ নয়, আরও কয়েকটি বিষয় দেখে বোঝা সম্ভব দই খাওয়ার উপযোগী আছে কি না।

কেন দইয়ে ঝাঁঝালো গন্ধ হয়?

দই তৈরিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যার ফলে দইয়ের পরিচিত টক স্বাদ তৈরি হয়। কিন্তু দই যদি অনেকক্ষণ ফ্রিজের বাইরে থাকে বা কয়েক দিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে ফারমেন্টেশন আরও বাড়তে থাকে। এতে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং দইয়ে তীব্র টক বা ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হতে পারে।তাই হালকা টক গন্ধ মানেই দই নষ্ট হয়ে গেছে, এমনটা নয়। তবে গন্ধ যদি খুব তীব্র হয়, তাহলে অন্য লক্ষণগুলোও পরীক্ষা করা উচিত।

jago

স্বাদ বদলে গেলে সতর্ক হোন

দই নষ্ট হয়েছে কি না, তা বোঝার অন্যতম উপায় হলো এর স্বাদ। স্বাভাবিক দইয়ের স্বাদ হালকা টক হলেও যদি খেতে গিয়ে অতিরিক্ত টক, তেঁতো, ঝাঁঝালো বা অস্বাভাবিক স্বাদ লাগে, তাহলে সেটি আর না খাওয়াই ভালো। কারণ অতিরিক্ত ফারমেন্টেশনের ফলে দইয়ের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রং ও টেক্সচার ভালো করে দেখুন

দই খাওয়ার আগে এর রং এবং গঠনও ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। যদি দইয়ের ওপর সবুজ, কালো, গোলাপি বা হলদেটে ফাঙ্গাস দেখা যায়, তাহলে সেটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। একইভাবে দই যদি খুব বেশি চটচটে, আঠালো বা অস্বাভাবিকভাবে পিচ্ছিল হয়ে যায়, তাহলে সেটিও নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। তবে দইয়ের ওপর সামান্য পানি জমে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এটি আলাদা করে ফেলে দিতে হবে না। চাইলে নেড়ে আবার খেতে পারেন।

jago

নষ্ট দই খেলে কী হতে পারে?

পচা বা দূষিত দই খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফলে পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব কিংবা জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। তাই দই নিয়ে সামান্য সন্দেহ থাকলেও সেটি না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

দই ভালো রাখার সঠিক উপায়

দই দীর্ঘ সময় ভালো রাখতে হলে সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা জরুরি। দই কেনার পর বা বাসায় তৈরি করার পর যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে রেখে দিন। সব সময় পরিষ্কার ও বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের সময় শুকনো ও পরিষ্কার চামচ ব্যবহার করুন। একই চামচ বারবার ব্যবহার করলে দইয়ে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।

খাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণ দই বের করে আবার দ্রুত ফ্রিজে রেখে দিন। দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে ফারমেন্টেশন দ্রুত বেড়ে যায় এবং দই দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দই একটি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার। তবে এটি নিরাপদভাবে খাওয়ার জন্য গন্ধ, স্বাদ, রং ও টেক্সচারের দিকে খেয়াল করা জরুরি।

সূত্র: ফুডনেটওয়ার্ক, অল রেসিপিস, এনডিটিভি ফুড

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow