টানা ভারী বর্ষণে অচল চট্টগ্রাম
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর। বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে নগরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল। একই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি, আলিম ও সমমানের বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নগরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মোহরা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার ও বন্দর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কয়েকটি এলাকায় ছোট
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর। বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে নগরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল। একই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি, আলিম ও সমমানের বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নগরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মোহরা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার ও বন্দর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কয়েকটি এলাকায় ছোট যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক ও ড্রেনের সীমারেখা মুছে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে বহু বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুরসংলগ্ন এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ট্রেন ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাতায়াত করে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
জেলা প্রশাসন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বহাল থাকবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে।