টালিউডকে ‘মুমূর্ষু’ আখ্যা দিয়ে অবসরের পথে অপর্ণা সেন
বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশ কি তবে আরও কিছুটা ম্লান হয়ে যেতে চলেছে? যে হাতে তৈরি হয়েছে '৩৬ চৌরঙ্গী লেন', 'পারমিতার একদিন' কিংবা 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার'-এর মতো কালজয়ী সব চলচ্চিত্র, সেই হাত কি আর কোনোদিন ক্যামেরার পেছনে ফিরবে না? এমনই এক আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে টালিপাড়ায়। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বাংলা সিনেমার বর্তমান দৈন্যদশা এবং দর্শকদের পরিবর্তিত রুচিবোধ নিয়ে হাহাকার ঝরে পড়ল কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা সেনের কণ্ঠে। তীব্র ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস মেশানো কণ্ঠে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, সিনেমা তৈরির সব আগ্রহ আজ মৃতপ্রায়। সিরিয়ালের হাতছানিতে হারিয়ে যাওয়া দর্শকের ভিড়ে নিজের সৃজনশীলতার সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
প্রকাশিত সেই পডকাস্টে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অপর্ণা সেন বলেন, বাংলা সিনেমা এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, দর্শকরা এখন টেলিভিশনের মেগা সিরিয়ালে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছেন, যা তাদের রুচি নষ্ট করছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় পর্দার জন্য মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের কোনো সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্র
বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশ কি তবে আরও কিছুটা ম্লান হয়ে যেতে চলেছে? যে হাতে তৈরি হয়েছে '৩৬ চৌরঙ্গী লেন', 'পারমিতার একদিন' কিংবা 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার'-এর মতো কালজয়ী সব চলচ্চিত্র, সেই হাত কি আর কোনোদিন ক্যামেরার পেছনে ফিরবে না? এমনই এক আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে টালিপাড়ায়। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বাংলা সিনেমার বর্তমান দৈন্যদশা এবং দর্শকদের পরিবর্তিত রুচিবোধ নিয়ে হাহাকার ঝরে পড়ল কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা সেনের কণ্ঠে। তীব্র ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস মেশানো কণ্ঠে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, সিনেমা তৈরির সব আগ্রহ আজ মৃতপ্রায়। সিরিয়ালের হাতছানিতে হারিয়ে যাওয়া দর্শকের ভিড়ে নিজের সৃজনশীলতার সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
প্রকাশিত সেই পডকাস্টে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অপর্ণা সেন বলেন, বাংলা সিনেমা এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, দর্শকরা এখন টেলিভিশনের মেগা সিরিয়ালে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছেন, যা তাদের রুচি নষ্ট করছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় পর্দার জন্য মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের কোনো সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এই প্রবীণ নির্মাতা বলেন, একটি মৃতপ্রায় শিল্পকে নিয়ে সবাই যা করছে, তা চলতে থাকলে বাংলা সিনেমার টিকে থাকা কঠিন হবে। টেলিভিশন হয়তো কর্মসংস্থান তৈরি করছে, কিন্তু এটি বিশ্বের সেরা কিছু নয়।
দর্শকদের বিমুখতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, আমি কার জন্য ছবি বানাব? আমার দর্শক কোথায়? সবাই তো এখন টিভিতে মজে আছে।
উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের মতো প্রখ্যাত নির্মাতাদের হাত ধরে ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে অভিষেক হওয়া অপর্ণা সেন গত ছয় দশক ধরে অভিনেত্রী ও পরিচালক হিসেবে অসংখ্য কালজয়ী কাজ উপহার দিয়েছেন।
১৯৮১ সালে ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’ দিয়ে পরিচালনার যাত্রা শুরু করে প্রথম ছবিতেই তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তার নির্মিত ‘পরমা’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’ এবং ‘দ্য জাপানিজ ওয়াইফ’-এর মতো সিনেমাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে।