টিএন্ডটির টাকা আত্মসাতের দায়ে তিন কর্মকর্তার ১০ বছরের কারাদণ্ড

চেকের অংক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের (টিএন্ডটি) ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক এক ক্যাশিয়ার ও দুই বিভাগীয় প্রকৌশলীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।  আদালত তিন আসামির প্রত্যেককে ৯৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টিএন্ডিটি বোর্ডের আগ্রাবাদ কার্যালয়ের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান। মামলার আরেক আসামি প্রকৌশলী স্বপন কুমার মিত্র তদন্ত চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে টিএন্ডটি বোর্ডের ইমারত নির্মাণ বিভাগে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলা দুর্নীতি দমন অফিসের তৎকালীন কর্মকর্তা মো. নুর আহম্মদ অনুসন্ধানের সময় দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখতে পান, ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হ

টিএন্ডটির টাকা আত্মসাতের দায়ে তিন কর্মকর্তার ১০ বছরের কারাদণ্ড

চেকের অংক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের (টিএন্ডটি) ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক এক ক্যাশিয়ার ও দুই বিভাগীয় প্রকৌশলীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। 

আদালত তিন আসামির প্রত্যেককে ৯৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টিএন্ডিটি বোর্ডের আগ্রাবাদ কার্যালয়ের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান। মামলার আরেক আসামি প্রকৌশলী স্বপন কুমার মিত্র তদন্ত চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে টিএন্ডটি বোর্ডের ইমারত নির্মাণ বিভাগে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলা দুর্নীতি দমন অফিসের তৎকালীন কর্মকর্তা মো. নুর আহম্মদ অনুসন্ধানের সময় দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখতে পান, ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে অনুমোদিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করেছেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি এবং অফিসের ক্যাশবই বা অন্য কোনো সরকারি নথিতেও তার হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি।

জানা গেছে, এই মামলার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৪ সালে। তবে মামলা দায়ের হয় ১৯৯৯ সালে। এরপর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্তি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় দীর্ঘ সময় তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি নতুন গতি পায়। ২০১৪ সালে বিচার শুরু হলেও রায় আসতে আরও এক যুগ সময় লাগে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, সরকারি অর্থের হেফাজতকারী হিসেবে ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনিয়ম বিভাগীয় প্রকৌশলীদের অগোচরে হয়েছে বলে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। বরং তারা ক্ষমতাপত্র ও অনুমোদনের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটনে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি বলেন, দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে সব ধারার সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে। ফলে তিন আসামিকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। মামলায় আগে কোনো সময় কারাভোগ করে থাকলে সেই সময় মূল সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow