ট্রাকভর্তি আসছে গরু, পরিবার নিয়ে হাটে আসছেন ক্রেতারা

পুরান ঢাকার ধোলাইখাল সড়কের দুই পাশে এখন শুধু গরু আর গরু। দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারিদের ট্রাক, একের পর এক পশু নামানোর ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের হাঁটাহাঁটি— সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে এখানে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন পরিবেশ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবার সাদেক হোসেন খোকা মাঠের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গা ও ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার রাজধানীতে মোট ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১১টি এবং ঢাকা দক্ষিণে ১০টি। সরেজমিনে দেখা যায়, ধোলাইখালের এই হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জমে উঠছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি করে আনা হচ্ছে কোরবানির পশু। একের পর এক ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। হাট পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে পশুগুলো সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা সহজে ঘুরে দেখতে পারেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও থেমে নেই হাটের বেচাকেনা। কেউ ছাতা মাথায়, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পশু দেখতে ও কিনতে আসছেন। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের বাজেটে মেলানো— সব মিলিয়ে হাটে তৈরি হয়েছে এক ভিন

ট্রাকভর্তি আসছে গরু, পরিবার নিয়ে হাটে আসছেন ক্রেতারা

পুরান ঢাকার ধোলাইখাল সড়কের দুই পাশে এখন শুধু গরু আর গরু। দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারিদের ট্রাক, একের পর এক পশু নামানোর ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের হাঁটাহাঁটি— সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে এখানে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন পরিবেশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবার সাদেক হোসেন খোকা মাঠের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গা ও ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার রাজধানীতে মোট ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১১টি এবং ঢাকা দক্ষিণে ১০টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধোলাইখালের এই হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জমে উঠছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি করে আনা হচ্ছে কোরবানির পশু। একের পর এক ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। হাট পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে পশুগুলো সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা সহজে ঘুরে দেখতে পারেন।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও থেমে নেই হাটের বেচাকেনা। কেউ ছাতা মাথায়, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পশু দেখতে ও কিনতে আসছেন। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের বাজেটে মেলানো— সব মিলিয়ে হাটে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবহ।

jagonews24.com

ক্রেতাদের কেউ বাজেট অনুযায়ী পশু খুঁজছেন, কেউ আবার পছন্দের গরু দেখে দরদাম করছেন। ছোট, মাঝারি ও বড়— সব ধরনের গরুই রয়েছে এই হাটে।  

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ভিড়

স্থানীয়দের অনেকেই এবার মৌসুমি ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ পানি ও খাবারের দোকান দিয়েছেন, কেউ পশুর খাবার বিক্রি করছেন। এসব দোকান বসেছে প্রধান সড়কের পাশের অলিগলিতে। সবারই প্রত্যাশা ভালো বেচাবিক্রি হবে এবং ক্রেতারা চাহিদামাতো পশু পাবেন।  

স্থানীয় বাসিন্দারা যা বলছেন

ওয়ারী, বংশাল, সূত্রাপুর, স্বামীবাগ ও নারিন্দা এলাকার বাসিন্দারা জানান, পরিবার নিয়ে পশুর হাটে আসা এখন তাদের কাছে এক ধরনের ঈদ উৎসবে পরিণত হয়েছে। শুধু কেনাকাটা নয়, ঘুরে দেখাও এখন আনন্দের অংশ হয়ে উঠেছে।

ওয়ারীর বাসিন্দা মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখার জন্যই আসি। বাচ্চারা খুব আনন্দ পায়। এটা এখন ঈদের একটা অংশ হয়ে গেছে। ভিড় থাকলেও সময়টা ভালো কাটে।

আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে এবারও কি পচবে কোরবানির পশুর চামড়া? 
কোরবানির হাটে বৃষ্টির হানা, বিপাকে গরুর ব্যাপারীরা 

বংশালের রাকিবুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, এখানে বিভিন্ন দামের গরু দেখা যায়। বাজেট অনুযায়ী পছন্দ করা সহজ হয়। দরদাম করেও ভালো পশু নেওয়া যায়। পরিবেশও তুলনামূলক ভালো।

তিনি বলেন, শিশুদের নিয়ে এসেছি, তারা খুব খুশি। গরু দেখার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য ঈদের আনন্দের অংশ। পরিবারের সবাই মিলে সময়টা উপভোগ করছি।

স্বামীবাগের ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ভিড় থাকলেও পরিবেশ মোটামুটি ভালো। দরদাম করে কেনাকাটা করা যায়। প্রতিবছরই আসি, এবারও ভালো লাগছে।

নারিন্দার কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর পরিবার নিয়ে আসি। এবারও এলাম, খুব ভালো লাগছে। এটা এখন আমাদের ঈদের নিয়মিত অংশ হয়ে গেছে।  

খামারিদের প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারিরা জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা ভালো বাজার ও ন্যায্য দামের আশায় পশু এনেছেন। বগুড়া থেকে আসা আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, দূর থেকে কষ্ট করে পশু এনেছি। আশা করি ন্যায্য দাম পাবো। ক্রেতারা ভালোভাবে দেখে বুঝে কিনছেন, এটা ভালো দিক।

jagonews24.com

তিনি বলেন, এবার বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ভালো। দাম নিয়েও আমরা আশাবাদী। যদি বেচাবিক্রি ভালো হয়, তাহলে কষ্ট সার্থক হবে।

কুষ্টিয়ার খামারি সোহেল রানা বলেন, পশুর যথেষ্ট যত্ন নিয়েছি। ক্রেতারা দেখছেন, পছন্দ করছেন। বিক্রি ভালো হলে আমাদের পরিশ্রম সফল হবে।

রংপুরের খামারি মো. আলমগীর বলেন, বৃষ্টি-বাতাসের মধ্যেও আমরা এখানে আছি। ভালো বেচাবিক্রির অপেক্ষায় আছি। আশা করি সবাই ন্যায্য দাম পাবেন।  

হাটের এক ব্যবস্থাপক আলমগীর কবির জাগো নিউজকে বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য নিরাপত্তা, পানি ও ছায়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।

তিনি বলেন, ঈদের আগে ভিড় আরও বাড়বে। আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাবেচা করতে পারেন।  

এমডিএএ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow