ট্রাক্টরের পেছনে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে ছুটছে শিশুরা

আমন ধান রোপণের উদ্দেশ্যে জমি চাষ করতে বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে থাকা জমিতে ট্রাক্টর নামতেই যেন শুরু হয়েছে অন্যরকম এক উৎসবের। ট্রাক্টরের লাঙলে কাদামাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির গর্তে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট দেশি মাছ ভেসে উঠছে। আর সেই মাছ ধরতে হাতে ঝাঁকি, বালতি, গামলা নিয়ে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটছে স্থানীয় শিশু-কিশোররা। মুহূর্তেই পুরো মাঠ যেন পরিণত হয়েছে এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়। সম্প্রতি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বালিনা এলাকার বিস্তীর্ণ এক জলাবদ্ধ জমিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এ যেন এক গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ।  বিকেলের দিকে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু হতেই আশপাশের শিশু-কিশোররা মাঠে জড়ো হয়। কেউ কাদাজলে হাঁটু ডুবিয়ে, কেউ আবার দৌড়ে ট্রাক্টরের পেছনে পেছনে ছুটে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ প্রতিযোগিতা শুধু মাছ ধরারই নয়, অন্যরকম এক উৎসবেরও। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষার সময় জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় জমির আশপাশের ডোবা বা খাল থেকে কৈ, শিং, পুঁটি, টেংরা, মাগুর ও চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশি মাছ আশ্রয় নেয়। পরে জমি চাষের সময় মাটি উল্টে গেলে এসব মাছ সহজেই চোখে পড়ে। তখন শিশু-কিশোরদের

ট্রাক্টরের পেছনে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে ছুটছে শিশুরা

আমন ধান রোপণের উদ্দেশ্যে জমি চাষ করতে বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে থাকা জমিতে ট্রাক্টর নামতেই যেন শুরু হয়েছে অন্যরকম এক উৎসবের। ট্রাক্টরের লাঙলে কাদামাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির গর্তে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট দেশি মাছ ভেসে উঠছে। আর সেই মাছ ধরতে হাতে ঝাঁকি, বালতি, গামলা নিয়ে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটছে স্থানীয় শিশু-কিশোররা। মুহূর্তেই পুরো মাঠ যেন পরিণত হয়েছে এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়।

সম্প্রতি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বালিনা এলাকার বিস্তীর্ণ এক জলাবদ্ধ জমিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এ যেন এক গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। 

বিকেলের দিকে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু হতেই আশপাশের শিশু-কিশোররা মাঠে জড়ো হয়। কেউ কাদাজলে হাঁটু ডুবিয়ে, কেউ আবার দৌড়ে ট্রাক্টরের পেছনে পেছনে ছুটে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ প্রতিযোগিতা শুধু মাছ ধরারই নয়, অন্যরকম এক উৎসবেরও।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষার সময় জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় জমির আশপাশের ডোবা বা খাল থেকে কৈ, শিং, পুঁটি, টেংরা, মাগুর ও চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশি মাছ আশ্রয় নেয়। পরে জমি চাষের সময় মাটি উল্টে গেলে এসব মাছ সহজেই চোখে পড়ে। তখন শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি অনেক সময় বড়রাও মাছ ধরতে নেমে পড়েন। এতে এক ধরনের উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

মাছ ধরতে আসা স্থানীয় কিশোর তালহা যুবায়ের জানায়, ট্রাক্টর মাঠে নামলেই আমরা দৌড়ে চলে আসি। বন্ধুদের সঙ্গে এভাবে মাছ ধরতে ভালো লাগে। আজ অনেকগুলো পুঁটি ও কৈ মাছ পেয়েছি। বাড়ি নিয়ে গেলে মা খুশি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগে বর্ষাকালে এমন দৃশ্য আরও বেশি দেখা যেত। এখন দেশি মাছ আগের মতো না থাকলেও জলাবদ্ধ জমিতে ট্রাক্টর চালালে কিছু মাছ বেরিয়ে আসে। শিশুদের আনন্দ দেখে আমাদেরও ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। 

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শামসুল আলম বলেন, আধুনিক কৃষিকাজের ব্যস্ততার মধ্যেও এমন দৃশ্য গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা সৌন্দর্যকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। একদিকে কৃষকের জমি প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে চলে, অন্যদিকে কাদাজলে মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠে শিশু-কিশোররা। বর্ষার এই ক্ষণিকের আয়োজন যেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা শৈশব আর প্রকৃতিনির্ভর জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow