ট্রাম্পের বৈঠকেও ইরান চুক্তিতে হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে উভয় দিকের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা মাইন ধ্বংস করতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় একমত হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হওয়ার জন্য ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু এমন চুক্তিই করবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তার নির্ধারিত সীমারেখা পূরণ করবে। ইরান

ট্রাম্পের বৈঠকেও ইরান চুক্তিতে হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে উভয় দিকের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা মাইন ধ্বংস করতে হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় একমত হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হওয়ার জন্য ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু এমন চুক্তিই করবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তার নির্ধারিত সীমারেখা পূরণ করবে। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।”

যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত, যাতে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিরাপদে ফিরে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংসের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য “সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ”। সংস্থাটি দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংসের কোনো শর্ত নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা। পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।”

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ এবং মজুত ধ্বংসের দাবি জানিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এসব উপাদান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আলোচনায় এখনো কিছু ভাষাগত বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্নে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, “কথা বা আশ্বাসে ইরানের আস্থা নেই, কার্যকর পদক্ষেপই আসল বিষয়। অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও কোনো পদক্ষেপ নেবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে উভয় পক্ষ। বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে আগে ইরানের বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে হামলা পরিচালিত হয়েছিল।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ হামলাকে “যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow