ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন ব্রিফিং, কী চলছে 'অভ্যন্তরে'
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের লক্ষ্য, সময়সীমা ও কৌশল নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে গোপন ব্রিফিং পাওয়ার পর তারা যুদ্ধের বিষয়ে প্রকাশ্য শুনানির দাবি জানিয়েছেন। কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন। মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের একটি দল বলছে, হোয়াইট হাউস এখনো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি কেন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িয়েছে, এর লক্ষ্য কী এবং যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে। বন্ধ দরজার ওই ব্রিফিংয়ের পর কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ক্রিস মারফি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দুই ঘণ্টার একটি গোপন ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে এলাম। এতে আমার কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে এই কৌশল পুরোপুরি অসংগতিপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসে এসে যুদ্ধের অনুমোদন চাইতেন, তাহলে সেটি সম্ভবত পেতেন না—কারণ মার্কিন জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের ‘না’ ভোট দিতে বলত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যা ঘটেছেগত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধি
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের লক্ষ্য, সময়সীমা ও কৌশল নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে গোপন ব্রিফিং পাওয়ার পর তারা যুদ্ধের বিষয়ে প্রকাশ্য শুনানির দাবি জানিয়েছেন। কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন।
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের একটি দল বলছে, হোয়াইট হাউস এখনো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি কেন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িয়েছে, এর লক্ষ্য কী এবং যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে।
বন্ধ দরজার ওই ব্রিফিংয়ের পর কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ক্রিস মারফি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দুই ঘণ্টার একটি গোপন ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে এলাম। এতে আমার কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে এই কৌশল পুরোপুরি অসংগতিপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসে এসে যুদ্ধের অনুমোদন চাইতেন, তাহলে সেটি সম্ভবত পেতেন না—কারণ মার্কিন জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের ‘না’ ভোট দিতে বলত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যা ঘটেছে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার কংগ্রেস সদস্যদের গোপন বৈঠকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এসব বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
তবে বৈঠকগুলো গোপন হওয়ায় আইনপ্রণেতারা প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছেন না।
ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ
ব্রিফিংয়ের পর একাধিক ডেমোক্র্যাট সিনেটর বলেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য, সময়সীমা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে প্রশাসন স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি।
কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, “এই যুদ্ধের কোনো শেষ লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট একইসঙ্গে বলেন যুদ্ধ প্রায় শেষ, আবার বলেন এটি মাত্র শুরু। বিষয়টি পরস্পরবিরোধী।”
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “১৫ মিলিয়ন আমেরিকান যারা স্বাস্থ্যসেবা হারিয়েছেন তাদের জন্য অর্থ নেই, কিন্তু ইরানে বোমা হামলার জন্য প্রতিদিন এক বিলিয়ন ডলার খরচ করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, কংগ্রেস চাইলে বাজেটের মাধ্যমে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থামাতে পারে।
স্থলবাহিনী পাঠানোর আশঙ্কা
কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানো হতে পারে। ব্লুমেনথাল বলেন, “আমরা এমন একটি পথে এগোচ্ছি, যেখানে সম্ভাব্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।”
তিনি বলেন, যুদ্ধের খরচ, ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য বিস্তৃতি সম্পর্কে মার্কিন জনগণের আরও বেশি তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।
রিপাবলিকানদের অবস্থান
অন্যদিকে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, এই হামলার উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানো।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্রায়ান মাস্ট বলেন, তেহরানের ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।
তবে দলের ভেতরেও কিছু সমালোচনা রয়েছে। কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, প্রশাসন প্রতিদিনই যুদ্ধের নতুন নতুন কারণ দিচ্ছে, কিন্তু কোনোটিই যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সাংবিধানিক বিতর্ক
এই যুদ্ধ নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও আধুনিক সময়ের অনেক প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করেছেন।
রাজনীতি ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড শুল্টজ বলেন, “প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ সংবিধান লঙ্ঘন করছে কি না—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।”
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য দাবি করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা ছিল একটি ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ মোকাবিলার পদক্ষেপ—যে যুক্তি ব্যবহার করে অতীতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন।
What's Your Reaction?