ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : দুঃখ প্রকাশ সেই জামায়াত নেতার
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। এর আগে শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। জনসভায় তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, ডাকসু নির্বাচনের পর যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটাকে ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম। এই বক্তব্যের পর সমালোচনার মুখে রোববার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দেন শামীম আহসান। এতে তিনি বলেন, গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটায় এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া আমার একটি বক্তব্যে অনেকেই মর্মাহত হয়েছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন স
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
এর আগে শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
জনসভায় তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, ডাকসু নির্বাচনের পর যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটাকে ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।
এই বক্তব্যের পর সমালোচনার মুখে রোববার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দেন শামীম আহসান। এতে তিনি বলেন, গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটায় এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া আমার একটি বক্তব্যে অনেকেই মর্মাহত হয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে জাগোনিউজ২৪-এ প্রকাশিত ‘দিনে মাদকসেবীদের আড্ডা, রাতে যৌনকর্মীদের দখলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর মাদক সেবনে জড়িত থাকার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছিল বলে তিনি জানান, যেখানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছিল।
শামীম আহসান আরও বলেন, ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তার শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গিতে অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।
শামীম আহসান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানেও তাদের ভূমিকা আমাদের নতুন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বক্তব্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদ রোববার রাতে বলেন, ওই বক্তব্যটি তার (শামীম আহসান) ব্যক্তিগত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মান-সম্মানের একটি স্থান এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। বক্তব্যটি তিনি না দিলেও পারতেন। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।
What's Your Reaction?