ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে যে ১০টি বিষয় জানা জরুরি
বর্ষা মৌসুম এলেই বাংলাদেশে বাড়তে শুরু করে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু কী? ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে এই মশা বেশি সক্রিয় থাকে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, ত্বকে র্যাশ এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে ১০টি বিষয় জানা জরুর
বর্ষা মৌসুম এলেই বাংলাদেশে বাড়তে শুরু করে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু কী?
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে এই মশা বেশি সক্রিয় থাকে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, ত্বকে র্যাশ এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে ১০টি বিষয় জানা জরুরি
১. সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন
এডিস মশা পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, এসির ট্রে, টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, ড্রাম, ফ্রিজের ট্রে, ছাদের পানি জমার স্থানসহ যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেবেন না। সপ্তাহে অন্তত একদিন এসব জায়গা পরিষ্কার করুন।
২. দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকুন
অনেকে মনে করেন মশা শুধু রাতে কামড়ায়। কিন্তু এডিস মশা মূলত দিনের বেলাতেই বেশি সক্রিয় থাকে। তাই অফিস, স্কুল কিংবা বাসা, যেখানেই থাকুন না কেন, দিনের বেলায়ও মশা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।
৩. পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরুন
বাইরে বের হলে ফুলহাতা জামা, লম্বা প্যান্ট ও মোজা পরার চেষ্টা করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
৪. মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন
শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করুন। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থদের মশারির ভেতরে রাখা উচিত।
৫. মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন
প্রয়োজনে মশা নিরোধক ক্রিম, স্প্রে, কয়েল বা বৈদ্যুতিক ভ্যাপোরাইজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে শিশুদের জন্য নিরাপদ পণ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
৬. জ্বরকে হালকাভাবে নেবেন না
হঠাৎ ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা চোখের পেছনে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৭. পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন
ডেঙ্গুতে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
৮. বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান
ডেঙ্গুর কিছু সতর্ক সংকেত রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। যেমন—
- বারবার বমি হওয়া
- নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
- বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া
- তীব্র পেটব্যথা
- শ্বাসকষ্ট
- প্রস্রাব কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
এসব লক্ষণ গুরুতর ডেঙ্গুর ইঙ্গিত হতে পারে।
৯. বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন
শুধু নিজের ঘর নয়, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গ্যারেজ ও আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ একটি বাসার জমে থাকা পানিতেই হাজার হাজার এডিস মশার জন্ম হতে পারে।
১০. পরিবার ও প্রতিবেশীদের সচেতন করুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধ একা সম্ভব নয়। পরিবার, প্রতিবেশী ও কর্মস্থলের সবাইকে সচেতন করতে হবে। একটি এলাকায় সবাই একসঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ
ডেঙ্গু হলে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
- হঠাৎ উচ্চ জ্বর
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখের পেছনে ব্যথা
- শরীর ও গাঁটে ব্যথা
- বমি বমি ভাব বা বমি
- ত্বকে লালচে র্যাশ
- অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অবসাদ
চিকিৎসা নিয়ে যা জানা জরুরি
ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকলেও সময়মতো চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করাই ভালো। জ্বর কমানোর জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
- সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। তাই নিজের বাসা, কর্মস্থল ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমাতে।
What's Your Reaction?