ঢাকা-১১ আসনের ভোট বাতিল চেয়ে বিএনপির কাইয়ুমের আবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের ফলাফলের কিছু অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করে ভোট পুনর্গণনার আবেদন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। এ ছাড়া ঘোষিত ফলাফল স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার জন্যও বলেছেন। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে কাইয়ুম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত ফলাফল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO, 1972) এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’ আইনগত ভিত্তি ১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ধারা ৩১ ও ৩৭ অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে। ২. ধারা ৪২ ও ৪৩ অনুযায়ী ভোট গণনার সময় প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং গণনার স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক। ৩. ধারা ৪৪এ ও ৪৪ই অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পূর্বে সঠিকভাবে ব্যালট গণনা ও আপত্তিকৃক্ত ভোটে নিষ্পত্তি করা আবশ্যক। ৪. ধারা ১১ ও ১৪ অনুসারে,

ঢাকা-১১ আসনের ভোট বাতিল চেয়ে বিএনপির কাইয়ুমের আবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের ফলাফলের কিছু অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করে ভোট পুনর্গণনার আবেদন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। এ ছাড়া ঘোষিত ফলাফল স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার জন্যও বলেছেন।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।

আবেদনে কাইয়ুম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত ফলাফল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO, 1972) এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

আইনগত ভিত্তি

১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ধারা ৩১ ও ৩৭ অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।

২. ধারা ৪২ ও ৪৩ অনুযায়ী ভোট গণনার সময় প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং গণনার স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক।

৩. ধারা ৪৪এ ও ৪৪ই অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পূর্বে সঠিকভাবে ব্যালট গণনা ও আপত্তিকৃক্ত ভোটে নিষ্পত্তি করা আবশ্যক।

৪. ধারা ১১ ও ১৪ অনুসারে, গুরুতর অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে তা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনযোগ্য।

৫. নির্বাচন কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ ও ১১৯ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকির পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব বহন করে।

বাস্তবিক অনিয়মগুলো

১. প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রদত্ত ১৫ থেকে ৫০টি করে বৈধ ভোট অযৌক্তিকভাবে বাতিল (rejected) করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রের সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সর্বনিম্ন ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) ভোট পদ্ধতিগতভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

২. নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট বৃদ্ধি: বেরাইদ এ কে এম রহমতউল্লাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গভীর রাতে রায় ১,২০০ এবং রামপুরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রায় ১,৫০০ ভোট অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বেরাইদ এলাকার অন্যান্য সব কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।

একটি মাত্র কেন্দ্রে এই বিপুল ব্যবধান সুস্পষ্টভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ ও কারচুপির ইঙ্গিতবাহী। এই দুই কেন্দ্রে মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ভোটের কারসাজি হয়েছে।

৩. বাড্ডা হাই স্কুল ভোটকেন্দ্রে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে প্রায় ২ (দুই) ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে আসা বিপুল সংখ্যক ভোটার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ভোট প্রদান করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এটি ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সুস্পষ্ট বাধা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ৩১-এর পরিপন্থী।

৪. বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গণনার সময় এজেন্টদের বাধা প্রদান/ বহিষ্কার করা হয়েছে।

৫. ফলাফল বিবরণী (Statement of the Result) ও কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

৬. আপত্তিকৃত ভোট যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করে ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ব্যালট পেপার পুনর্গণনার আবেদন সমেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

উপরোক্ত অনিয়মগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা, বৈধতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আইনের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিতে ফলাফল পুনর্বিবেচনা ও ভোট পুনর্গণনা করা ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয়।

ইসির প্রতি কাইয়ুমের আবেদন—

১. ঢাকা-১১ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত/বাতিল ঘোষণা করা হোক;

২. সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসমূহে অবিলম্বে পুনরায় ভোট গণনার নির্দেশ প্রদান করা হোক;

৩. প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়মসমূহ যাচাই করা হোক;

৪. ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ এম কাইয়ুম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষার্থে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow