তাইজুল দেখিয়ে দিলেন, পাকিস্তান বধে তিনিই ছিলেন সেরা অস্ত্র

শেষ পর্যন্ত তাইজুলই হলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ‘ট্রাম্পকার্ড।’ ধারণাই করা যাচ্ছিল, সিলেট টেস্টের শেষদিন পাকিস্তান বধে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলই হতে পারেন বাংলাদেশ দলের মোক্ষম অস্ত্র। বাস্তবে হয়েছেনও তাই। শেষদিন বাংলাদেশের যে তিন উইকেট দরকার ছিল, তার দুটিই নিয়েছেন তাইজুল। যেহেতু আগের দিন শেষ বিকেলে নতুন বল নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, তাই আজ শেষদিন সকালে দুই ফাস্ট বোলার তাসকিন আর নাহিদ রানাকে দিয়েই শুরু করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক; কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেননি। দুজনই বেদম মার খেয়েছেন। দুই দ্রুতগতির বোলার তাসকিন আর নাহিদ রানাকে উইকেটের সামনে ও দু’দিকে ইচ্ছেমতো মেরেছেন রিজওয়ান আর সাজিদ খান। বুধবার প্রথম আধঘণ্টায় তাসকিন আর নাহিদ রানার ৭ ওভারে ৩৪ রান ওঠে। তাই বাধ্য হয়েই পেসার পাল্টে তাইজুলকে একপ্রান্তে আনেন শান্ত; কিন্তু এক ওভার পর আবার তাকে প্রান্ত বদলে ব্রেকের পর আবার তাইজুলকে বোলিংয়ে আনেন টাইগার অধিনায়ক। বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই খেলার চালচিত্র পাল্টে দেন তাইজুল। তার বলে স্লিপে ক্যাচ দেন সাজিদ খান। ৩৬ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ২৮ রান করা সাজিদ ক্যাচ তুলে দেন প্রথম স্লিপে শান্তর হাত

তাইজুল দেখিয়ে দিলেন, পাকিস্তান বধে তিনিই ছিলেন সেরা অস্ত্র

শেষ পর্যন্ত তাইজুলই হলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ‘ট্রাম্পকার্ড।’ ধারণাই করা যাচ্ছিল, সিলেট টেস্টের শেষদিন পাকিস্তান বধে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলই হতে পারেন বাংলাদেশ দলের মোক্ষম অস্ত্র। বাস্তবে হয়েছেনও তাই। শেষদিন বাংলাদেশের যে তিন উইকেট দরকার ছিল, তার দুটিই নিয়েছেন তাইজুল।

যেহেতু আগের দিন শেষ বিকেলে নতুন বল নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, তাই আজ শেষদিন সকালে দুই ফাস্ট বোলার তাসকিন আর নাহিদ রানাকে দিয়েই শুরু করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক; কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেননি। দুজনই বেদম মার খেয়েছেন।

দুই দ্রুতগতির বোলার তাসকিন আর নাহিদ রানাকে উইকেটের সামনে ও দু’দিকে ইচ্ছেমতো মেরেছেন রিজওয়ান আর সাজিদ খান। বুধবার প্রথম আধঘণ্টায় তাসকিন আর নাহিদ রানার ৭ ওভারে ৩৪ রান ওঠে। তাই বাধ্য হয়েই পেসার পাল্টে তাইজুলকে একপ্রান্তে আনেন শান্ত; কিন্তু এক ওভার পর আবার তাকে প্রান্ত বদলে ব্রেকের পর আবার তাইজুলকে বোলিংয়ে আনেন টাইগার অধিনায়ক।

বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই খেলার চালচিত্র পাল্টে দেন তাইজুল। তার বলে স্লিপে ক্যাচ দেন সাজিদ খান। ৩৬ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ২৮ রান করা সাজিদ ক্যাচ তুলে দেন প্রথম স্লিপে শান্তর হাতে। ওই ওভারে হঠাৎ করেই ২ স্লিপ নিয়ে বোলিং শুরু করেন বাঁ-হাতি তাইজুল। আর দ্বিতীয় বলেই ব্রেক-থ্রু।

জুটিটা বিপজ্জনকভাবে এগোচ্ছিল, সেটা ভাঙার পরপরই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে পাকিস্তানিরা। তার প্রমাণ থার্ড পেসার শরিফুলের বলে আউট মোহাম্মদ রিজওয়ান। আস্থার সঙ্গে খেলতে থাকা রিজওয়ান গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিরাজের হাতে। ব্যাকফুটে চলে যায় শান মাসুদের দল। ঠিক এর পরপরই খুররম শাহজাদকে আউট করে সিরিজকে ২-০ করেন তাইজুল।

নতুন বলে সাত সকালে নাহিদ রানা ও তাসকিনের মতো বোলার থাকতে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলকে বোলিংয়ে আনার কথা নয়। তবে তাইজুল দেরিতে বোলিংয়ে এসেও দেখিয়ে দিলেন, সিলেটের উইকেটে পাকিস্তান বধে তিনিই ছিলেন সেরা অস্ত্র।

ক্যারিয়ারে ১৮ বারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেটশিকারি হয়ে তাইজুল দেখিয়ে দিলেন, উইকেট যতই ভালো থাকুক, ক্ষত যত কম হোক, বোলিং বুটের আঘাতে পপিং ক্রিজে যতই ক্ষত তৈরি হোক না হোক, পঞ্চম দিনের পিচে তাইজুল ঠিকই বল ঘোরাতে পারেন। ঘুরিয়েছেনও। তার স্পিনঘূর্ণি সামলাতে না পেরেই আসলে এ ম্যাচ হারল শান মাসুদের পাকিস্তান।

আগের দিনও পাকিস্তানের তিন সেট ব্যাটার শান মাসুদ, বাবর আজম আর আগা সালমানকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দিয়েছিলেন তাইজুল।

শেষ বিকেলে হাসান আলির আউট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকাররা ওই আউটের পেছনে তাইজুলকে কৃতিত্ব দেওয়ার চেয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে তিরস্কার করেছেন বেশি। পাকিস্তান ক্রিকেটের ৯০ দশকের তারকা বাসিত আলি, টিভি কমেন্টেটর বাজিদ খানসহ অনেকেই মোহাম্মদ রিজওয়ানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের কথা, রিজওয়ান পুরোদস্তুর ব্যাটার। তিনি কেন ওভারের দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে হাসান আলিকে স্ট্রাইক দিলেন?

কিন্তু হাসান আলি যে বলে উইকেটের পেছনে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন, সেই বলটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি টার্ন করেছে এবং সেই টার্ন সামলানো কঠিন ছিল, তা নিয়ে কোনো কথাই বলেননি তারা। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটাররা উইকেটে অনেকটা সময় কাটানোর পর বলে গতি, প্রকৃতি আর টার্ন বুঝে গেলেও টেলএন্ডারদের জন্য তাইজুলের বল সারভাইভ করা সহজ না। এটা সহজেই অনুমেয় ছিল। সেটাই হয়েছে।

পঞ্চম দিনে পিচের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে না পড়লেও ওই পিচে যে তাইজুল বল ঘোরাতে পারেন, সেটা হয়তো বাসিত আলিদের সেভাবে জানা নেই। আজ বুধবার সকালে তাইজুল তার প্রমাণ দিলেন। নাহিদ রানা আর তাসকিন আহমেদকে সামলালেও সাজিদ ও খুররম শাহজাদের পক্ষে তাইজুলকে সামলানো সম্ভব হয়নি। আর তাই বাংলাদেশ ঠিকই জিতে গেল এবং পাকিস্তানিদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকলেন সেই তাইজুলই।

এআরবি/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow