তাপপ্রবাহ ছাড়াই শহরকে গরম করছে যানজট, গবেষণায় সতর্কতা

বিশ্বজুড়ে শহরগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে শুধু তাপপ্রবাহ বা জলবায়ু পরিবর্তন নয়, প্রতিদিনের যানজটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, স্বাভাবিক দিনেও যানবাহন থেকে উৎপন্ন তাপ শহরের বাতাসকে গরম করে তুলছে এবং এতে মানুষের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ও ফ্রান্সের তুলুজ শহরে যানবাহনের তাপ গ্রীষ্মে গড়ে প্রায় দশমিক ২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং শীতে দশমিক ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বৃদ্ধি তেমন বড় মনে না হলেও, যখন শহর আগে থেকেই তাপে থাকে, তখন এটি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির ইঞ্জিন, এক্সহস্ট পাইপ, ব্রেক এবং টায়ার থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি তাপ হিসেবে নির্গত হয়। এই তাপ সরাসরি রাস্তার আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনগুলো সেটি আটকে রাখে। ফলে তাপ সহজে বের হতে পারে না এবং শহর আরও গরম হয়ে ওঠে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ঝংহুয়া ঝেং জানান, এই তাপ শুধু রাস্তার উপরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা দেখিয়েছেন, যানবাহনে

তাপপ্রবাহ ছাড়াই শহরকে গরম করছে যানজট, গবেষণায় সতর্কতা

বিশ্বজুড়ে শহরগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে শুধু তাপপ্রবাহ বা জলবায়ু পরিবর্তন নয়, প্রতিদিনের যানজটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, স্বাভাবিক দিনেও যানবাহন থেকে উৎপন্ন তাপ শহরের বাতাসকে গরম করে তুলছে এবং এতে মানুষের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ও ফ্রান্সের তুলুজ শহরে যানবাহনের তাপ গ্রীষ্মে গড়ে প্রায় দশমিক ২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং শীতে দশমিক ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বৃদ্ধি তেমন বড় মনে না হলেও, যখন শহর আগে থেকেই তাপে থাকে, তখন এটি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির ইঞ্জিন, এক্সহস্ট পাইপ, ব্রেক এবং টায়ার থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি তাপ হিসেবে নির্গত হয়। এই তাপ সরাসরি রাস্তার আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনগুলো সেটি আটকে রাখে। ফলে তাপ সহজে বের হতে পারে না এবং শহর আরও গরম হয়ে ওঠে।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ঝংহুয়া ঝেং জানান, এই তাপ শুধু রাস্তার উপরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা দেখিয়েছেন, যানবাহনের তাপ কীভাবে শহরের বাতাস, ভবন ও রাস্তার সঙ্গে মিশে একটি বড় প্রভাব তৈরি করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তাপ শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও প্রবেশ করে। ম্যানচেস্টারে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় দশমিক শূন্য ৯°ফা. এবং তুলুজে দশমিক ৪৯°ফা. পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ঘরের কুলিং সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের গঠনও এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সরু রাস্তা এবং কম সবুজায়ন থাকলে তাপ বেশি আটকে যায়। অন্যদিকে, খোলা জায়গা, গাছপালা এবং ভালো নগর পরিকল্পনা তাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সব ধরনের যানবাহন সমান তাপ তৈরি করে না। পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি বেশি তাপ ছাড়ে, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি তুলনামূলক কম তাপ উৎপন্ন করে। তাই পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় এখনই নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। যানজট কমানো, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো ও সবুজায়ন বাড়ানো—এসব উদ্যোগ শহরকে ঠান্ডা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জার্নাল অব অ্যাডভান্সেস ইন মডেলিং আর্থ সিস্টেমে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নতুন তথ্য ভবিষ্যতে শহরের তাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে সহায়তা করবে। তথ্যসূত্র : আর্থডটকম
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow