তামিম শুধু মেরেই খেলে না, তার টেকনিকও ভালো; আজ সেটাই দেখিয়েছে
আজ বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ তামিম অনবদ্য সেঞ্চুরি করে এখন পাদপ্রদীপের আলোয়। দুজনই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে মাঠ মাতিয়েছেন। আলো ছড়িয়ে এখন সবার প্রশংসাধন্য। তবে তানজিদ তামিমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটা একজনকে একটু বেশিই আনন্দ দিয়েছে। তানজিদের পরিবার, বাবা-মা ছাড়া অন্য যে কারও চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। হওয়ারই কথা। কারণ, এই নামী ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের হাত ধরেই ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তানজিদ তামিম। বগুড়ার ছেলে তানজিদ তামিম ও তাওহিদ হৃদয় ছিলেন রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমির ছাত্র। খালেদ মাহমুদ সুজন সেই একাডেমিতেই তাদের ঘষেমেজে তৈরি করেছেন। শুধু বগুড়ার ওই দুই কৈশোর পেরোনো ১৬-১৭ বছরের তরুণকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে তৈরি করাই নয়, তাদের প্রতিষ্ঠার পেছনেও সুজনের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তার হাত ধরে এবং তাঁর মধ্যস্থতায় তানজিদ ও হৃদয় ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান। কাজেই তাদের কার কী সামর্থ্য, কে কেমন ব্যাটার, কার প্লাস-মাইনাস কী, কে অফসাইডে শক্তিশালী, কে অনসাইডে ভালো খেলেন, কার ডিফেন্স ভালো, কে ক্রিকেটীয় শট ভালো খেলেন, কার মেরে খেলার সামর্থ্য বেশি এবং কে ইমপ্রোভাইজ করে ব
আজ বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ তামিম অনবদ্য সেঞ্চুরি করে এখন পাদপ্রদীপের আলোয়। দুজনই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে মাঠ মাতিয়েছেন। আলো ছড়িয়ে এখন সবার প্রশংসাধন্য।
তবে তানজিদ তামিমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটা একজনকে একটু বেশিই আনন্দ দিয়েছে। তানজিদের পরিবার, বাবা-মা ছাড়া অন্য যে কারও চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। হওয়ারই কথা। কারণ, এই নামী ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের হাত ধরেই ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তানজিদ তামিম।
বগুড়ার ছেলে তানজিদ তামিম ও তাওহিদ হৃদয় ছিলেন রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমির ছাত্র। খালেদ মাহমুদ সুজন সেই একাডেমিতেই তাদের ঘষেমেজে তৈরি করেছেন। শুধু বগুড়ার ওই দুই কৈশোর পেরোনো ১৬-১৭ বছরের তরুণকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে তৈরি করাই নয়, তাদের প্রতিষ্ঠার পেছনেও সুজনের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তার হাত ধরে এবং তাঁর মধ্যস্থতায় তানজিদ ও হৃদয় ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান।
কাজেই তাদের কার কী সামর্থ্য, কে কেমন ব্যাটার, কার প্লাস-মাইনাস কী, কে অফসাইডে শক্তিশালী, কে অনসাইডে ভালো খেলেন, কার ডিফেন্স ভালো, কে ক্রিকেটীয় শট ভালো খেলেন, কার মেরে খেলার সামর্থ্য বেশি এবং কে ইমপ্রোভাইজ করে বেশি খেলেন। এসবই খালেদ মাহমুদ সুজনের সবচেয়ে ভালো জানা।
তার কোচিংয়েই হৃদয় ও তানজিদ একসঙ্গে জাতীয় যুব দলে (অনূর্ধ্ব-১৯) সুযোগ পান। যদিও পুরোনো দিনের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুজন জানালেন, ২০২০ সালের যুব বিশ্বকাপের আগে তানজিদ তামিম ও তাওহিদ হৃদয় ৩৫ জনের প্রাথমিক ক্যাম্পেও ডাক পাননি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে এ তথ্য দিয়ে তানজিদ তামিমের গুরু-মেন্টর সুজন বলেন, ‘তামিম আর হৃদয় (তৌহিদ হৃদয়) প্রথমে যুব বিশ্বকাপের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পায়নি। আমার মনে আছে, তানজিদ তামিম আর তাওহিদ হৃদয়ের বাদ পড়া নিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। রীতিমতো হইচই করেছিলাম। পরে ওরা দুজনই সুযোগ পেল। এরপরের ইতিহাস তো সবার জানা। আমাদের যুবারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো। দুজনই প্রতিষ্ঠিত হলো। দুজনই বগুড়ার ছেলে। দুজনই রাজশাহীতে এসে প্রতিষ্ঠিত হলো।’
অনেকেই বলেন, তানজিদ তামিম একটু বেশি মেরে খেলেন। আপনার কী মত?
এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সুজন বলেন, ‘তামিম কিন্তু টেকনিক্যালি ভালো খেলোয়াড়। তবে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলতে খেলতে একটু নিজেকে হারিয়ে ফেলছিল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজেকে মানিয়ে নিতেই অতিরিক্ত শট খেলছিল। যেটা টি-টোয়েন্টির চাহিদা। তাই বেশি শট খেলার অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল ওর। বাট, ওর মধ্যে ক্রিকেটীয় শট খেলার সক্ষমতা ছোটবেলা থেকেই ছিল।’
প্রিয় ছাত্র ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দিলেন। আপনার অনুভূতি কেমন?
জাগো নিউজের এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‘অনেক ভালো লেগেছে। কষ্টটা আসলে তানজিদ তামিমেরই। কারণ চেষ্টাটা সে করেছে। অর্জনটাও সে পেয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে। তবে ১০০ করার পরপরই লুজ শট খেলে আউট হওয়াটা ভালো লাগেনি। আউটের ধরনটাও চোখে লেগেছে। খুবই লুজ শট ছিল।’
আউটের ধরন ও সময় ভালো না লাগলেও তানজিদ তামিমের আজকের খেলার ধরন, শট নির্বাচন ও টেম্পারামেন্ট খুব ভালো লেগেছে সুজনের। তার ভাষায়, ‘সেঞ্চুরিটা খুব ভালো করেছে। এক্সিলেন্ট ব্যাটিং করেছে। টি-টোয়েন্টি দেখতে দেখতে আমরা তামিমকে বলগাহীন শট খেলতে দেখেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু আজকে সে অনেক সেন্সিবল ব্যাটিং করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, দেখে খুব ভালো লেগেছে।’
প্রিয় শিষ্য তানজিদ তামিমকে পরিশ্রমী আখ্যা দিয়ে তার রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাকের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তামিম খুব ভালো এবং সিনসিয়ার ছেলে। হার্ডওয়ার্ক করে। অ্যাবিলিটি আছে। ক্রিকেটীয় শট খেলার পাশাপাশি ইমপ্রোভাইজ করতে পারে। তেড়ে-ফুঁড়ে মারতেও পারে। কিন্তু টেকনিক পরিপাটি। ক্রিকেটীয় শট খেলার সামর্থ্যও যথেষ্ট আছে। আজ শুক্রবার ডারউনে সেটাই দেখিয়েছে তামিম।’
এআরবি/আইএন
What's Your Reaction?