নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ দিয়ে ভবিষ্যৎ বিশ্বকে কল্পনা করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিশ্ব মঞ্চে থ্রি জিরোর বুলি আওড়ানো সেই ড. ইউনূস যখন দেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন তখন যুক্ত হলো আরো ‘তিনটি শূণ্য’। ওই শূন্যগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো জবাবদিহির অভাব বা শূন্য জবাবদিহিতা। বাংলাদেশে নতুন করে আবির্ভূত এ শূন্যের কারণেও তাকে ভিন্নভাবে মনে রাখা লাগতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। সেই সরকার স্বচ্ছতা, নৈতিক কর্তৃত্ব এবং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সরকার তা পূরণ করতে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিল। তারা ভুলে গেল দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা। তাদের মধ্যে ‘জবাবদিহি’ চর্চা আর দেখা গেল না। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার এ বিষয়টি এখন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি উঠছে।
ইউনূস সরকারের চরিত্র ছিল গতানুগতিক রাজনৈতিক দলের চেয়ে ব্যতিক্রম। সেই সময়ে তাদের আকস্মিক রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা ছিল দেশের বিশেষ একটি জনগোষ্ঠীর কাছে অনেকটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো। আবার অনেকে তাকে দলীয় সংঘাতের ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী একজন রাষ্ট্র পরিচালক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। রাজনীতিতে রাজনীতিকদের থেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন হওয়ায় দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সুশাসনের এক নতুন সংস্কৃতির সূচনা করতে পারবে। নিশ্চিত করতে পারবে স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা। বছরের পর বছর ধরে চলা বিভাজিত সংস্কৃতির বদল ঘটবে। প্রত্যাশা তৈরি হয়, সরকারের একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবে এবং দেশ পরিচালনার এক ভিন্ন উপায় বাতলে দিতে পারবে। দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর সরকারের তরফ থেকেও সংস্কার নিয়ে এমনই বাগাড়ম্বর ছিল। স্বচ্ছ সরকার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর অস্বচ্ছ উপায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। কিন্তু দেখা গেল, অন্তর্বর্তী সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকল, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান ততই স্পষ্ট হয়ে উঠল। কয়েক দশক ধরে একজন উদ্ভাবক, সংস্কারক এবং নৈতিক জনস্বার্থের প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত ড. ইউনূস দেশে পরিচিতি পেতে থাকলেন একজন অসহিষ্ণু শাসক হিসেবে। ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টারা নির্বাচনের মাধ্যমে না এসেও জনগণের যে নৈতিক সমর্থন পেয়েছিলেন, ঠিক ততটাই জনগণের সমর্থন হারিয়ে বিদায় নিয়েছেন।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচনাগুলোর মধ্যে একটি ছিল স্বচ্ছতা নিয়ে। বেশিরভাগ সময় ব্যাপক জনমত যাচাই ছাড়াই বড় বড় নীতিগত উদ্যোগ ঘোষণা করা হতো। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে প্রণয়ন করা হয়, কাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয় বা কী কী বিকল্প বিবেচনা করা হতো, সে সম্পর্কে খুব কমই তথ্য প্রকাশ করা হতো। এটি শুধু একটি পদ্ধতিগত উদ্বেগের বিষয় ছিল না; গণতান্ত্রিক সমাজে স্বচ্ছতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নাগরিকরা মূল্যায়ন করেন, সরকারি সিদ্ধান্তগুলো জনস্বার্থ রক্ষা করবে কি না। কিন্তু যখন তথ্য গোপন করা হয়, তখন বিশ্বাস অনিবার্যভাবেই ক্ষয় হতে থাকে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বতন্ত্র ধরনই সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে। সংসদ অনুপস্থিত থাকায় কোনো অর্থবহ আইনগত তদারকি ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতিতে কখনও কখনও একটি অনির্বাচিত প্রশাসন প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার না হলেও এ ধরণের সরকারের স্বচ্ছ থাকার বাধ্যবাধকতা আরও বেশি থাকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার জন্য বিশেষ রকমের জবাবদিহিতাও প্রয়োজন হয়। কিন্তু ইউনূসের ক্ষেত্রে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যেই নেওয়া হতো বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি বেশিরভাগ সময় সেই সিদ্ধান্তগুলোর জন্য জনসমক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হতো না। এই সমস্যা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে সরকারের প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগুলোর মধ্যে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও গভীরভাবে একীভূত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকার সমর্থকরা সে সময় যুক্তি দিয়েছেন, এ চুক্তিগুলো বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে। কিন্তু এখন এসবের স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সে সময় চুক্তির পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে আলোচনাগুলো কি যথেষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল? অংশীজনদের সঙ্গে কি যথাযথ উপায়ে পরামর্শ করা হয়েছিল? বিদেশের সঙ্গে চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সমস্ত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কি খোলামেলা আলোচনা করা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর শুরু থেকেই পাওয়া যায়নি।
একইভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নিয়ে লজিস্টিকস এবং বন্দরখাতের সহযোগিতাসংক্রান্ত আলোচনা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো কী প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে নাগরিকরা প্রায়ই সংশয়ে থাকতেন।
ম্যারস্ক ও বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। সরকার সমর্থকরা এ ধরনের সম্পৃক্ততাকে লজিস্টিকস আধুনিকীকরণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। অথচ সে সময় বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের যেকোনো ব্যবস্থার শর্তাবলী, প্রতিযোগিতামূলক বিবেচনা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে জনগণের কাছে আরও বেশি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার দরকার আছে। এটা জানা তাদের অধিকার। সরকার তার তোয়াক্কা করেনি।
ডিপি ওয়ার্ল্ড সম্পর্কিত প্রস্তাবনাগুলো ঘিরে আলোচনাতেও একই উদ্বেগ দেখা যায়। সরকার সমর্থকেরা এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ আছে বলে প্রচার করতে থাকেন। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কৌশলগত জাতীয় সম্পদসংক্রান্ত আলোচনায় পর্যাপ্ত জনসমীক্ষা কি করা হয়েছে? এসব প্রশ্ন ও উদ্বেগ যৌক্তিক ছিল নাকি ছিল না, তার ব্যাখা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করা হয়নি। অর্থাৎ জনগণকে আশ্বস্ত করার বিষয়ে স্বচ্ছতা পর্যাপ্ত ছিল না। এমনকি তাগিদও অনুভব করা হয়নি।
জ্বালানি নীতিও একইভাবে জন্ম দেয় বিতর্কের। বাংলাদেশের গ্যাস খাতে শেভরনের ভূমিকা সম্প্রসারণ তৎপরতা নিয়েও গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জন্ম দেয় সমালোচনার। সরকার পক্ষের লোকেরা যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশের জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তাদের ভাষ্যে, অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরবরাহ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সহায়তা করতে পারে। এক্ষেত্রেও সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন কার্যপ্রণালী, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহ চুক্তির উদ্যোগ সমালোচনার জন্ম দেয়। এ উদ্যোগকে ঘিরেও স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা ঘাটতি নিয়ে তখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। সরকারের সমর্থকরা বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু তখনও প্রশ্ন ওঠে, প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে সহজলভ্য ও সম্ভাব্য সস্তা বিকল্পগুলোর বিষয়ে যথেষ্ট বিবেচনা করা হয়েছে কি না।
এদিকে মার্কিন এলএনজি আমদানি একটি স্বাভাবিক উদ্যোগই ছিল। কিন্তু প্রশ্নটি উঠেছিল, নীতিনির্ধারকরা সব রকমের বিকল্পের স্বচ্ছ ও তুলনামূলক বিবেচনা করেছেন কি না। জনগণকে বুঝিয়েছেন কিনা, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ভোক্তা ও করদাতাদের জন্য ভালো হবে। একথা সবাই জানে, আমাদেরর মতো দেশে জ্বালানির খরচ সরাসরি পারিবারিক বাজেট, শিল্পে প্রতিযোগিতা এবং মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের মতামত অনিবার্যভাবে দরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তিগুলো যদি সত্যিকারই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও আমাদের জন্য মঙ্গলের হয়, তবে জনগণের সামনে প্রকাশ করতে তাদের সমস্যা ছিল কোথায়? বরং জনগণের সমর্থন আদায় তাদের জন্য সহজ ছিল। সরকার কেন তা করল না? আবার যদি বিকল্প সরবরাহকারীরা আমাদের জন্য আরও অনুকূল শর্ত দিয়ে থাকে, তবে সেই বিকল্পগুলোই বা কেন প্রত্যাখ্যান করা হয়, তা জানার অধিকার জনগণের ছিল। এইভাবে তথ্য প্রকাশ না করা কিংবা জনগণকে অন্ধকার রাখার ফলে শূন্যতা তৈরি হয় জবাবদিহিতার। আর এসব লকচুরির ফলেই নানা জল্পনা-কল্পনা উস্কে দেয়। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারায় মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের প্রশ্ন ওঠা আর কোনো অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গাওয়া এক জিনিস নয়। দুঃখজনকভাবে, অন্তর্বর্তী সরকার বেছে নেয় দ্বিতীয় পথটি।
দুর্নীতি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। দুটি কিন্তু ভিন্ন। ফলে যে সরকারগুলো জনগণের কাছে তাদের উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তারা এমন পরিস্থিতিই তৈরি করে, যা সন্দেহের ডালপালা বিস্তৃত করবে। দুর্নীতি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতির মধ্যে এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অভিযোগ ও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছিল, তা এখন পর্যন্ত আদালতে প্রমাণ হয়নি। তারপরও একথা বলতেই হবে যে তাদের কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। আর এর কারণ ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। তথ্যগোপন প্রবণতা অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক স্তম্ভকে দুর্বল করে দেয়। যদিও এই নৈতিক সমর্থন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ভিত্তি। আর এই নৈতিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ড. ইউনূস সরকার জনগণের ভোটে জিতে সরকার পরিচালনার বৈধতা পায়নি। এই বৈধতা এসেছিল জনগণের আস্থা থেকে। অর্থাৎ আস্থাই ছিল এই সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ। সে আস্থা তারা টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
জবাবদিহিতা শুধু দেশ পরিচালনার জন্য টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এটি গণতান্ত্রিক বৈধতার ভিত্তি। জনগণকে অবশ্যই বোঝানোর দায়িত্ব সরকারের যে, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কারা এর থেকে লাভবান হবে এবং কোন জনস্বার্থ রক্ষা করা হবে। ফলে বোঝা জরুরি, স্বচ্ছতা আস্থা বাড়ায়। আর অস্বচ্ছতা বাড়ায় দুর্বলতা। জবাবদিহিতা অপব্যবহারে হাত থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করে। আর জবাদিহির অভাব বা অনুপস্থিতি জনগণের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সরকারকে শুধু ভালো নীতি অনুসরণ করলেই চলবে না। সেই নীতিগুলো কীভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, তার পরিষ্কার চিত্র জনগণের সামনে ধারাবাহিকভাবে ধরতে হবে। এ মানদণ্ড নির্বাচিত সরকারগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনির্বাচিত সরকারের জন্য এটি আরও বেশি করে প্রযোজ্য।
বস্তুত ড. ইউনূসের স্বপ্ন বিশ্বকে দারিদ্র্য ও বেকারত্বমুক্ত করা এবং পরিবেশকে রক্ষা করা। সন্দেহ নেই, সে আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রশংসনীয়। কিন্তু বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে এখানে আরও একটি শিক্ষা পাওয়া যেতে পারে। তা হচ্ছে, কোনো সমাজ কখনই দারিদ্র্য দূর করতে পারবে না, যদি জবাবদিহিতা নিজেই শূন্যের কাছাকাছি চলে যায়। অর্থনৈতিক সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ, রাজনৈতিক পালাবদলও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটাও দেখতে হবে, প্রয়োজনীয় সংস্কারও জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে থাকতে পারে যদি জবাবদিহি শূন্যের কোঁটায় পৌঁছে। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য যেমন একটি স্বচ্ছ সরকার দরকার; একইভাবে জনগণের কাছে দৃশ্যমানভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য এমন একটি সরকারও প্রয়োজন।
লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক