তিন ম্যাচেই গোল ভিনির, রোমারিও-রোনালদোদের মত শুভ সংকেত পাচ্ছে ব্রাজিল!
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কি হয়? কাকতালীয়ভাবে একই বিন্দুতে এসে মিলে যেতে পারে ইতিহাসের কয়েকটি গতিপথ? আগের চারবারে তো তেমনই হয়েছিল। এবারও সেই একই ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি এবারও সেই ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র? পরিসংখ্যান অন্তত সেই আশা প্রবলভাবে দেখাতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু পরিসংখ্যান আছে, যা শুধুই সংখ্যা নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, আশার প্রতীক। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এমনই এক পরিসংখ্যানের অংশ হয়ে গেলেন, যা সেলেসাও সমর্থকদের এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ১টি এবং সর্বশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন ২টি গোল। চার গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নাম লেখালেন এই ব্রাজিল তারকা। এর মধ্য দিয়ে ভিনিসিয়ুস বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়লেন। তার আগে এই তালিকায় ছিলেন জায়ারজিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো (২০০২) এবং রিভালদো (২০০২)। আরও পড়ুন বিশ্বকাপ জয়ে
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কি হয়? কাকতালীয়ভাবে একই বিন্দুতে এসে মিলে যেতে পারে ইতিহাসের কয়েকটি গতিপথ? আগের চারবারে তো তেমনই হয়েছিল। এবারও সেই একই ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি এবারও সেই ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র? পরিসংখ্যান অন্তত সেই আশা প্রবলভাবে দেখাতে শুরু করেছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু পরিসংখ্যান আছে, যা শুধুই সংখ্যা নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, আশার প্রতীক। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এমনই এক পরিসংখ্যানের অংশ হয়ে গেলেন, যা সেলেসাও সমর্থকদের এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ১টি এবং সর্বশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন ২টি গোল। চার গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নাম লেখালেন এই ব্রাজিল তারকা। এর মধ্য দিয়ে ভিনিসিয়ুস বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়লেন। তার আগে এই তালিকায় ছিলেন জায়ারজিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো (২০০২) এবং রিভালদো (২০০২)।

বিশ্বকাপ জয়ের সব ধরনের ‘উপাদান’ আছে মরক্কোর এই দলে!

‘চালাকি’ করতে গিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথে দক্ষিণ কোরিয়া

ব্রাজিলের কাছে হেরে হতাশায় আগেই বাড়ি যাওয়ার কথা বলছেন স্কটিশ কোচ
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই চারজনের নামের পাশে শুধু গোলের রেকর্ডই নেই, আছে বিশ্বকাপ ট্রফিও।
১৯৭০ সালে জায়ারজিনহো ছিলেন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। প্রতিটি ম্যাচে গোল করে তিনি দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে রোমারিও’ও হেঁটেছিলেন একই পথে। তার গোলেই ভর করে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটায় ব্রাজিল।
২০০২ বিশ্বকাপে তো ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছিল স্বপ্নের মতো। রোনালদো ও রিভালদো দুজনেই গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত জাপান-কোরিয়ার মাটিতে পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল সেলেসাওরা।
এবার সেই অভিজাত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিল সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জাগছে- তাহলে কি ইতিহাস আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে?
ভিনিসিয়ুস অবশ্য শুধু গোলই করছেন না, মাঠে তার উপস্থিতি পুরো ব্রাজিল দলকে অন্যরকম আত্মবিশ্বাসও দিচ্ছে। ডান-বাম দুই প্রান্তে গতি, ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার ক্ষমতা এবং গোল করার ক্ষুধা- সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এই ব্রাজিল দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। নেইমারের মতো তারকাও স্বীকার করছেন, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা হলেন ভিনিসিয়ুস।

নেইমারের চোখে ভিনিসিয়ুসই ব্রাজিলের প্রধান খেলোয়াড়

টানা তিন ম্যাচে ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

দেখা মিলেছে চেনা ব্রাজিলের, ছন্দও ফিরতে শুরু করেছে?
অনেক দিন ধরেই ব্রাজিল এমন একজন আক্রমণভাগের নেতা খুঁজছিল, যিনি বড় মঞ্চে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পারেন। নেইমারের অনুপস্থিতিতে সেই শূন্যতা পূরণের দাবিদার হিসেবে এখন সবচেয়ে জোরালো নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। যদিও নেইমার ফিরেছেন দলে, কিন্তু আগের সেই নেইমারকে খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
অবশ্য ফুটবল কখনো শুধু কাকতালীয় পরিসংখ্যান মেনে চলে না। বিশ্বকাপ জিততে হলে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের জন্য। কিন্তু ইতিহাস বলছে, গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করা ব্রাজিলিয়ানরা কখনো খালি হাতে বাড়ি ফেরেননি।
সে কারণেই ভিনিসিয়ুসের এই অর্জন এখন শুধুই ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়। এটি হয়ে উঠেছে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক রোমাঞ্চকর বার্তাও। সেলেসাও সমর্থকরা তাই আশা করতেই পারেন- জায়ারজিনহো, রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদোর পথ ধরে হয়তো ভিনিসিয়ুসও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন। পূরণ করতে পারবেন ব্রাজিলিয়ানদের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?