তৃতীয় দফায় রিমান্ডে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন
রাজধানীর পল্টন থানায় মানবপাচার আইনে করা মামলায় এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ দেন। এদিন দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় এজলাসে আসামি মাসুদ উদ্দিন আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনকে বলেন, ‘এই কি দেশপ্রেমের নমুনা। বার বার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। হাতে হাতকড়া পরতে হচ্ছে।’ এরপর শুনানি শুরু হলে আসামির ফের চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে অতি সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ৬ দিনের সময় স্বল্পতার কারণে পাওয়া অফ এটর্নিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো নির্বাচনের পদ্ধতি, এফডব্লিউসিএসএমের অপারেশনাল কার্যক্রম, ২০২২-২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী প্রেরণ করেছে, এই আসামির এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে, মেডিকেল ফ
রাজধানীর পল্টন থানায় মানবপাচার আইনে করা মামলায় এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় এজলাসে আসামি মাসুদ উদ্দিন আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনকে বলেন, ‘এই কি দেশপ্রেমের নমুনা। বার বার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। হাতে হাতকড়া পরতে হচ্ছে।’ এরপর শুনানি শুরু হলে আসামির ফের চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে অতি সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ৬ দিনের সময় স্বল্পতার কারণে পাওয়া অফ এটর্নিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো নির্বাচনের পদ্ধতি, এফডব্লিউসিএসএমের অপারেশনাল কার্যক্রম, ২০২২-২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী প্রেরণ করেছে, এই আসামির এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করেছে, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পত্রগুলো সম্পর্কে আসামিকে সম্মুখে জিজ্ঞাসাবাদে আসামির নিকট হতে পুরোপুরি তথ্য পাওয়া যায়নি। ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
আরও বলা হয়, আসামি এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে তার তথ্য, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করেছে, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ টাকা উদ্ধার, অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনার জন্য আসামিকে নিজ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ফের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, এ আসামি ১/১১ এর কুশীলবদের মধ্যে অন্যতম। এজন্য তিনি আওয়ামী আমলে পুরস্কার হিসেবে ফেনী-৩ আসনের এমপি হয়েছেন। এরপরেও টাকার লোভে এজেন্সিকে তোয়াক্কা না করে ১০৩ সদস্যের সিন্ডিকেট করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত দুই দফার রিমান্ডে সব তথ্য পাওয়া যায়নি। এজন্য তাকে আরও চারদিনের রিমান্ড দেওয়া হোক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব শুনানতিতে বলেন, গত দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে তদন্ত কর্মকর্তা কী পেলেন তা আজকের রিমান্ড আবেদনে বলতে পারেনি। এ আসামি ৭২ বছর বয়সী হার্টে রিং পরানো একজন অসুস্থ ব্যক্তি। তাকে বারবার হয়রানি করার জন্য বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও এ মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট এসেছে সেই মামলায় তাকে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.), আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও মামলার আসামিরা মাফিয়া সিন্ডিকেট চক্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে সংবিধানের মূলনীতি পরিপন্থি জঘন্য অপরাধ করেছে। মামলার আসামি সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকুরিরত অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছেলেকে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার পরিবারের সদস্য অর্থাৎ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবর্হিভূতভাবে একটি প্রবাসী নামক অ্যাপস চালু করার অনুমোদন দিয়ে চক্রকে সহযোগিতা করেছে।
পরস্পর যোগসাজশে মামলার বাদীর সরলতার সুযোগে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশে তার কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে প্রত্যেকের দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছে। এ ছাড়া তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেছে।
What's Your Reaction?