তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকিতে খাদ্য, পদক্ষেপের কথা সংসদে জানালেন মন্ত্রী

কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্যে অতি ক্ষুদ্র মাত্রায় ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় উপাদান প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে খাদ্যে কৃত্রিম বা অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদার বলেন, ‘আমরা প্রতিটি খাবারের সঙ্গে ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, থোরিয়াম, অ্যান্টিমনি ভারী ধাতু, কীটনাশক এবং অন্যান্য রাসায়নিক গ্রহণ করছি। অনিরাপদ খাদ্যের ভয়াবহতা রোধে সরকারের কার্যকর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?’ জবাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, খাবারে ভেজাল, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, আফলাটক্সিন, ক্ষতিকর ভারী ধাতু, ক্ষতিকর অণুজীব, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ এবং ক্ষতিকর রঙের উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ধারণে নিয়মিত বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা—কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের অনুরোধে খাদ্যদ্রব্যে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষ

তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকিতে খাদ্য, পদক্ষেপের কথা সংসদে জানালেন মন্ত্রী

কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্যে অতি ক্ষুদ্র মাত্রায় ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় উপাদান প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে খাদ্যে কৃত্রিম বা অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদার বলেন, ‘আমরা প্রতিটি খাবারের সঙ্গে ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, থোরিয়াম, অ্যান্টিমনি ভারী ধাতু, কীটনাশক এবং অন্যান্য রাসায়নিক গ্রহণ করছি। অনিরাপদ খাদ্যের ভয়াবহতা রোধে সরকারের কার্যকর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?’

জবাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, খাবারে ভেজাল, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, আফলাটক্সিন, ক্ষতিকর ভারী ধাতু, ক্ষতিকর অণুজীব, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ এবং ক্ষতিকর রঙের উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ধারণে নিয়মিত বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা—কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের অনুরোধে খাদ্যদ্রব্যে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রকাশিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনিরাপদ খাদ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

jagonews24কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্য পরীক্ষা-এআই নির্মিত ছবি

মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ও থোরিয়ামের মতো প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় উপাদান পৃথিবীর মাটি, পানি, পাথর, সমুদ্রসহ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যমান। এসব উপাদানের উপস্থিতি কোথাও খুবই সামান্য, আবার ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থার কারণে কোথাও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, পরিবেশগত চক্রের মাধ্যমে এসব প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় উপাদান বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্যে অতি ক্ষুদ্র মাত্রায় প্রবেশ করতে পারে। তাই এ বিষয়ে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ পরিস্থিতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক ও ঝুঁকিমুক্ত করতে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি উন্নয়ন, জনবল প্রশিক্ষণ এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ঢাকা, সাভার, চট্টগ্রাম ও মংলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত গবেষণাগারের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে মাটি, পানি, খাদ্যশস্য, সামুদ্রিক ও পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ করে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে দেশের পরিবেশ ও খাদ্যচক্রে তেজস্ক্রিয়তার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের আমদানি নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্য ও খাদ্যপণ্যের কাঁচামালে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষা ও মূল্যায়নের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করে। পরীক্ষার মাধ্যমে খাদ্যে উপস্থিত তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার মধ্যে রয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর বাজারজাতের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে খাদ্যে কৃত্রিম বা অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এমওএস/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow