তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে: আমিন খান

বকেয়া পারিশ্রমিক, চুক্তিপত্র না পাওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব। এমন একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ বয়কট করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। শুক্রবার ক্রিকেটারদের বয়কটে অগ্রনী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচ ওয়াকওভার দেয় ব্রাদার্স। ক্রিকেটারদের দাবি, মৌসুমজুড়ে অপেক্ষা, অনুরোধ ও যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দলগতভাবে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিকেটারদের একজন বলেন, ‘এগুলো আমাদের সঙ্গে, প্লেয়ারদের সঙ্গে যে অবিচার তৈরি হচ্ছে কি না, সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। আর এখন আমরা যা করছি, নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা অবিচার করছি। এটা বুঝতে পেরেই আমরা এখানে থেমেছি।’ ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মূলত আমিন খান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, ‘আজকে আমিন খান এসেছিল। আমাদের সাথে সবকিছু আমিন খানই ডিল করেছে। আমিন খানই আমাদেরকে বলছে যে, তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে।’ এ সময় মাশরুর হোসাইনের প্রসঙ্গও আসে। ক্রিকেটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মাশরুর হোসাইন...উনি এখন মনে হয় সেক্

তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে: আমিন খান

বকেয়া পারিশ্রমিক, চুক্তিপত্র না পাওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব। এমন একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ বয়কট করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। শুক্রবার ক্রিকেটারদের বয়কটে অগ্রনী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচ ওয়াকওভার দেয় ব্রাদার্স। ক্রিকেটারদের দাবি, মৌসুমজুড়ে অপেক্ষা, অনুরোধ ও যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দলগতভাবে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিকেটারদের একজন বলেন, ‘এগুলো আমাদের সঙ্গে, প্লেয়ারদের সঙ্গে যে অবিচার তৈরি হচ্ছে কি না, সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। আর এখন আমরা যা করছি, নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা অবিচার করছি। এটা বুঝতে পেরেই আমরা এখানে থেমেছি।’

ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মূলত আমিন খান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, ‘আজকে আমিন খান এসেছিল। আমাদের সাথে সবকিছু আমিন খানই ডিল করেছে। আমিন খানই আমাদেরকে বলছে যে, তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে।’

এ সময় মাশরুর হোসাইনের প্রসঙ্গও আসে। ক্রিকেটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মাশরুর হোসাইন...উনি এখন মনে হয় সেক্রেটারি, ক্রিকেট ডিপার্টমেন্টের। আর উনি তো বিসিবিতে আছেন লজিস্টিক হিসেবে।’

ক্রিকেটারদের অভিযোগ, কম টাকায় দল গড়তে গিয়ে খেলোয়াড়দের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলে আনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদেরই। তিনি বলেন, ‘যেই তিন টাকার প্লেয়ার, আমরা কিন্তু তাকে এক টাকায় নিয়েছি। ব্যাপারটা এরকম। এবার সেকেন্ড ডিভিশনে সব প্লেয়ারের কন্ট্রাক্ট কম। তো ওই হিসাব করেই আমরা সব প্লেয়ারদেরকেই পেমেন্ট অনেক কম কম টাকায় সাইন করিয়েছি। এখন যেই টাকার, ওই প্লেয়ার আসলে ওই টাকার না, কিন্তু ও আরও বেশি পায়। ওইখান থেকে ওই টাকায় আমরা কথার মাধ্যমে, আমাদের প্লেয়ারদের মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে ও কনভিন্স হয়ে আমাদের কথায় খেলেছে। আলটিমেটলি আমরাই সাফার করছি।’

তাদের দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত মৌসুমেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা, ‘সত্যি কথা বলতে আমরা কয়েকজন তো গত বছরও ব্রাদার্সে খেলেছি। তখনও আমরা সাফার করেছি। এখন কন্টিনিউয়াসলি আমি যদি কোনো ফিডব্যাক না পাই, আমি প্রতি বছর কি এরকম করে ভর্তুকি দিয়ে বাবার ঘর থেকে টাকা এনে ক্রিকেট খেলবো? এভাবে সম্ভব নাকি?’

ঈদের আগে আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩০টা ফ্যামিলি, ঈদের আগে আমাদের নিয়ে তাদের কোনো রকম মাথাব্যথাই ছিল না। আমরা ৩০টা ফ্যামিলি ঈদের আগে কোনো রকম টাকা পয়সা পাই নাই, ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে। আমরা কিভাবে ঈদ করবো তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। এভাবে তো হয় না।’

ক্রিকেটারদের দাবি, তারা বিষয়টি বিসিবি সভাপতির কাছেও পৌঁছে দিয়েছিলেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলাম। ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ইশরাক ভাইয়ের পর্যন্ত জানিয়েছিল, মেসেজগুলো পৌঁছানো হয়েছিল। এমনকি ইশরাক ভাই আমাদের মাঠে এসে ঈদের আগে বলেছিল যে, তোমাদের সব ব্যাপার আমি দেখবো, কোনো টেনশন করো না। এতটুকুই।’

তবে সেই আশ্বাসের পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। ওই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে আমরা অফিসিয়ালি আর কোনো ফিডব্যাক বা ম্যাসেজ পাইনি। এমনকি আমরা ইশরাক ভাইয়ের সঙ্গে কন্টাক্ট করার জন্য উনার পিএ, সিএ সবার সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কোনো রকম রেসপন্স পাই নাই।’

তারা জানান, মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। বরং ক্লাবকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু হার্ডলাইনে খুব তাড়াতাড়ি যাইনি, আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি। এমনকি গতকাল রাতে আমরা আমাদের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে প্রত্যেকটা প্লেয়ারকে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি যে, আপনারা যদি ৮০% পেমেন্ট এবং কন্ট্রাক্ট পেপার সহ মাঠে না আসেন, আমরা খেলবো না।’

মাঠে যাওয়ার পরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানান তারা, ‘মাঠে আসার পরেও আমরা আমাদের অফিশিয়ালদের বলেছি যে আমাদের ফুল কন্ট্রাক্ট পেপারটা দেন, আমরা অন্তত এতটুকু নিশ্চিত হই যে আমার কন্ট্রাক্টটা হয়েছে এবং আমি কন্ট্রাক্ট পেপারটা পেয়েছি। তাহলে আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারবো যদি পেমেন্ট নাও পাই। সেটাও তারা করেন নাই। তো আমরা আর কি করবো?’

পেমেন্টের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘প্রথম থেকে আমাদের পেমেন্ট উনারা ২০% দিয়েছিল। এটা ঈদের আগে দেওয়ার কথা ছিল। পরে ২০% পাওয়ার পরে আমাদের কমিটমেন্ট করেছিল যে ৩০% আমরা ঈদের আগে পাবো। ঈদের আগে আমাদের ৩০% এর জন্য ২৩ তারিখে লাস্ট ম্যাচ হয়। আমাদের টিকেট ২৩ তারিখে ক্যান্সেল করা হয়। পরে ২৪ তারিখে উনারা আমাদেরকে ঢাকায় নিয়ে যায়। এক ছোট ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বলে এখানে নিয়ে এসেছিল যে আমাদের টাকা দিবে। আমরা যাওয়ার পর আমাদেরকে এখানে ১০-১৫ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। আমরা ওটা রিটার্ন ব্যাক করে চলে এসেছিলাম।’

ঈদের পরও প্রতিশ্রুতি মিলেছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের, ‘ঈদের পর উনারা কমিটমেন্ট করেছিল যে উনি এসে সব প্রবলেম সলভ করবে।’

এরপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ ম্যাচের আগেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘গত ম্যাচে যখন আমরা ইনফরমেশন পাই যে কমিটমেন্ট করে আমাদেরকে দুই তারিখের ম্যাচে মোটামুটি একটা পেমেন্ট দেওয়া হবে, তারপরেও যখন দেখলাম আমাদেরকে পেমেন্ট কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। সেইম রিকোয়েস্টটা গত ম্যাচেও যেটা করেছে, এই ম্যাচেও আগে থেকে করছিল। কিন্তু আমরা গতকালের আগের দিন থেকেই এই জিনিসটা উনাদেরকে ম্যাসেজ করে দিয়েছি যে আমাদের কন্ট্রাক্ট পেপার এবং আমাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী ১০০% পেমেন্ট যদি না দেন, আমরা মাঠে নামবো না।’

তাদের দাবি, ক্লাবের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে খেলোয়াড়রা না খেললেও দল মাঠে নামবে, ‘এমনকি তারা আগে থেকেই আমাদেরকে জানিয়েছে, উনারা আমাদেরকে রিটার্ন ব্যাক দিয়েছে, তোমরা যদি না খেলতে চাও, কোনো সমস্যা নাই, টিম নেমে যাবে। তো আমাদের আর কী করার?’

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা খেলা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন, ‘আমরা আমাদের সাইড থেকে চেষ্টা করলাম। এমনকি অফিসিয়াল থেকে কোনো রকম রেসপন্স বা ফিডব্যাক নেই। আমাদের অফিসিয়াল মাঠে আসেননি। আমরা উনাদের সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছি। আমরা টসের আগ পর্যন্ত ওয়েট করেছি, আমরা সবাই মাঠে গিয়েছি। আমরা ডিসিশন নিয়েছি আমরা খেলবো না।’

চুক্তিপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করে ওই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের কন্টাক্ট পেপার দেন। আমাদের অ্যাটলিস্ট এতটুকু নিশ্চিত করেন যে আমরা আমাদের কন্টাক্ট পেপারটা পেয়েছি। আমাদের কন্টাক্ট পেপারও আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। আর পেমেন্ট তো ২০% কাউকে, কেউ ১৭% পেয়েছে, কেউ ১২% পেয়েছে। এরকম ভেঙে ভেঙে ব্যাপারটা করা হয়েছে।’

মাঠের বাইরের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রিকেটাররা। আরেক ক্রিকেটার বলছিলেন, ‘না, আমরা নিজেদের গাড়িতে ফিরছি। বাস দিয়েছে একটা মালঞ্চ নন-এসি বাস, ওইটাতে আমরা কোনোকালে উঠতাম তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। একটা অকেজো বাস। এসি বাস নাই, কিছু নাই। এই গরমের মধ্যে প্লেয়াররা খেলে ওই বাসে করে আসা যাওয়া করবে। একটা ডাব থাকে না মাঠে। ফ্রুটস দেয়, শসা, আনারস, আম। আর খাওয়া দাওয়ার কথা তো বাদই দিলাম। এটা হয় না।’

সবশেষে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, খেলার কারণে অনেকভাবেই নিজেদের থেকে চেষ্টা করেছি। আর পারছি না দেখেই আমরা গিভ আপ করেছি। যেহেতু আমরা সবাই টিমে ভুক্তভোগী এবং আমরা সবাই একসাথে স্টেপ ডাউন করেছি, তাই স্পেসিফিকলি এখানে একজনের নাম মেনশন না করাটাই ভালো। আমরা এভাবেই এগোচ্ছি। যেহেতু আমরা সব প্লেয়াররা একসাথে আছি এবং আমরা যে ডিসিশন নিয়েছি, আমরা সবাই একসাথেই স্টেপ ডাউন করেছি। এখানে তো ক্রিকেট ১১ জনের খেলা।’

এসকেডি/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow