তড়িঘড়ি উদ্বোধন করেন বিদায়ী ডিসি, সাত মাসেও খোলা হয়নি দরজা

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘরটি দীর্ঘ তিন বছর ধরে তালা ঝুলছে। সবশেষ পুনঃসংস্কার নামে কাজ শুরু করা হলেও সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করে তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম। কিন্তু উদ্বোধনের সাত মাস পরও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি জাদুঘরের দরজা। জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি জাদুঘরের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে জেলা শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে পুরাতন ভূমি অফিসে উদ্বোধন করা হয় জাদুঘর। এতে চারটি কক্ষ রয়েছে। প্রথম কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ, দ্বিতীয়টিতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং তৃতীয়টিতে সংস্কৃতি বিষয়ক স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি কক্ষটি জাদুঘরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই জাদুঘরে ১১১টি উপকরণ রয়েছে। এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিবিষয়ক স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও আছে হাজার বছর আগের ফসিল, ২৫ ফুট মাটির গভীরে পাওয়া সাড়ে তিনশ বছর আগের নোঙর, বৈঠা, কাপাইর, চাঁই, সরা, ডাবুর, ডেউয়া, খড়ম, কলস ইত্যাদি। জাদুঘরটি চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য

তড়িঘড়ি উদ্বোধন করেন বিদায়ী ডিসি, সাত মাসেও খোলা হয়নি দরজা

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘরটি দীর্ঘ তিন বছর ধরে তালা ঝুলছে। সবশেষ পুনঃসংস্কার নামে কাজ শুরু করা হলেও সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করে তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম। কিন্তু উদ্বোধনের সাত মাস পরও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি জাদুঘরের দরজা।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি জাদুঘরের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে জেলা শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে পুরাতন ভূমি অফিসে উদ্বোধন করা হয় জাদুঘর। এতে চারটি কক্ষ রয়েছে। প্রথম কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ, দ্বিতীয়টিতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং তৃতীয়টিতে সংস্কৃতি বিষয়ক স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি কক্ষটি জাদুঘরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই জাদুঘরে ১১১টি উপকরণ রয়েছে। এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিবিষয়ক স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এছাড়াও আছে হাজার বছর আগের ফসিল, ২৫ ফুট মাটির গভীরে পাওয়া সাড়ে তিনশ বছর আগের নোঙর, বৈঠা, কাপাইর, চাঁই, সরা, ডাবুর, ডেউয়া, খড়ম, কলস ইত্যাদি। জাদুঘরটি চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে দর্শনার্থীরা পরিদর্শন করতে আসতেন। কিন্তু এর এক বছর পরই অজানা কারণে বন্ধ হয়ে যায় এই জাদুঘর। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাদুঘর জেলা প্রশাসন জাদুঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সংস্কার কাজ চলমান অবস্থায় বদলির আদেশ পাওয়া জেলা প্রশাসক দিদারুল আলম ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর তড়িঘড়ি করে জাদুঘরটি উদ্বোধন করে ফেলেন। তবে বিদায়ী জেলা প্রশাসকের উদ্বোধনের ৭ মাস পরও জাদুঘরটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এই সংস্কার কাজের নামে এখনো বন্ধ রয়েছে জাদুঘরটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের গেইটে তালা দেওয়া। ভেতরের আঙিনা অনেকটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। কক্ষের ভেতরেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহাসিক তৈজসপত্র। কিছু নিদর্শন গ্লাসের ভেতরে সুরক্ষিত রয়েছে। ইন্টেরিয়র কাজের মালামাল এলোমেলোভাবে মাটিতে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

জাদুঘরে সামনে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানার সঙ্গে, তিনি বলেন, জাদুঘরটি চালু করার পর অনেক মানুষ পরিদর্শনে আসতো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে তাদের আগ্রহ ছিল। কিন্তু হঠাৎ কেন এই জাদুঘর বন্ধ হয়ে যায় তা আমাদের জানা নেই।

তড়িঘড়ি উদ্বোধন করেন বিদায়ী ডিসি, সাত মাসেও খোলা হয়নি দরজা

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শিক্ষার্থী মোহাম্মদ পোলক বলেন, জাদুঘর দেখতে অনেক পর্যটন আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এটি। ভেতরের পরিবেশও ভালো না।

জাদুঘরের সামনে মুদি দোকানদার শাফায়াত খান বলেন, অনেক দিন ধরে জাদুঘরটি বন্ধ রয়েছে। মানুষ এসে ফিরে যায়। আমাদেরকে জাদুঘর চালুর বিষয়ে জিজ্ঞেস করে।

এই জাদুঘরের প্রস্তাবকারী উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর জেলা সভাপতি ও লেখক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম মাঠ পর্যায় থেকে যারা নিদর্শন সংগ্রহ করবে তাদেরকে কাজে লাগাতে। সেখানে নূন্যতম একটি তিনতলা ভবন দরকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শত শত কোটি টাকার নিদর্শন রয়েছে সংরক্ষণ করার মতো। অতীতে সব ডিসিদের বুঝানো হয়েছে বিষয়গুলো, কিন্তু তারা এগুলো ভাবতে রাজি নন। বিদায়ী ডিসি কী ধরনের উদ্যোগ নিয়ে গেছেন তা আমাদের জানা নেই, অথচ আমি জাদুঘরের সমন্বয়ক ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, নতুন জেলা প্রশাসকের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, ইতিহাস সম্পর্কে যারা অভিজ্ঞ তাদেরকে নিয়ে একটি কমিটি করবেন এবং যারা নিদর্শন সংগ্রহক আছেন বিভিন্ন উপজেলাতে তাদের যেন কাজে লাগান। মাঠ পর্যায়ে প্রচুর নিদর্শন রয়েছে, এগুলো রাখার জায়গা নেই। এগুলো সংরক্ষণ করতে বড় পরিসরে একটি ভবন নির্মাণ করবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখবেন বলেও প্রত্যাশা করছি। এছাড়া খোলা একটি মঞ্চ দরকার, যেখানে আমরা কবি, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকরা ইতিহাস ও নৃতত্ত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জাগো নিউজকে বলেন, আমি যোগদান করার পর এখনো জাদুঘরটি পরিদর্শন করিনি। সেখানে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। জাদুঘরটি পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow