থাইল্যান্ডে কিশোরের গুলিতে দাদা-দাদিসহ ৫ শিক্ষক নিহত, আহত ৩০
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে বাড়ি ও একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। খবর বিবিসির।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কিশোরটির দাদা-দাদি এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। পরে বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করে হামলাকারী। আত্মহত্যার সময় তার কাছে আরও ৩০টির বেশি গুলি ছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ননথাবুরি প্রদেশের স্কুলটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্কুলটি থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ ডেবসিরিন স্কুলের একটি শাখা। ১৮৮৫ সালে ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশটির কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী, কূটনীতিক ও ক্রীড়াবিদ রয়েছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক কিত্তিরাত ফানফেত জানিয়েছেন, ফরেনসিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছেন, হামলাকারীর গুলির লক্ষ্যভেদ বেশ নিখুঁত ছিল। বেশ কয়েকটি গুলি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঘাত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন বলেন, হামলাটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবে
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে বাড়ি ও একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। খবর বিবিসির।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কিশোরটির দাদা-দাদি এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। পরে বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করে হামলাকারী। আত্মহত্যার সময় তার কাছে আরও ৩০টির বেশি গুলি ছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ননথাবুরি প্রদেশের স্কুলটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্কুলটি থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ ডেবসিরিন স্কুলের একটি শাখা। ১৮৮৫ সালে ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশটির কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী, কূটনীতিক ও ক্রীড়াবিদ রয়েছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক কিত্তিরাত ফানফেত জানিয়েছেন, ফরেনসিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছেন, হামলাকারীর গুলির লক্ষ্যভেদ বেশ নিখুঁত ছিল। বেশ কয়েকটি গুলি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঘাত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন বলেন, হামলাটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটা উচিত ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের দেশে এটা কীভাবে ঘটতে পারে?
হামলাকারী কিশোরের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, ছেলেটি পড়াশোনার চাপে ভুগছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে স্কুলের একজন শিক্ষক বলেছেন, ছেলেটি ভালো ছাত্র ছিল এবং তার পড়াশোনার রেকর্ডও ভালো ছিল এবং তাকে আক্রমণাত্মক হিসেবে মনে হয়নি।
হামলার পর ওই কিশোরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার পরেই পুলিশ তার দাদা-দাদিকে হত্যার বিষয়টি জানতে পারে। ছেলেটি তাদের সঙ্গেই থাকতো।
থাইল্যান্ডের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোলাপি সুওয়ানচাওয়ি জানান, পুলিশ ওই কিশোরের বাড়ি থেকে যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে, তাতে জানা গেছে যে সে একজন আসক্ত গেমার ছিল।
ঘটনার সময় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে ছিলেন। বিবিসিকে তিনি জানান, বন্দুকধারী এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যাচ্ছিল। তার শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষককে গুলি করে সে। এরপর আতঙ্কে তিনি আর কিছু দেখতে পারেননি।
আরেক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানায়, প্রথমে সে গুলির শব্দকে আতশবাজি কিংবা কোনো কিছুতে আঘাত করার শব্দ ভেবেছিল। পরে একের পর এক গুলির শব্দ শুনতে পায়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি হামলাকারীর দাদার মালিকানাধীন ছিল।
হামলার পর শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি স্কুলও ক্লাস বাতিল করে শিক্ষার্থীদের আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এসব আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে বেসামরিক মানুষের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের হার অন্যতম বেশি। বিভিন্ন হিসাবে, দেশটির মোট আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ৪০ শতাংশই অবৈধ।
সূত্র : বিবিসি