থাকেন ভাঙা টিনের ঘরে, হয়েছেন এমপি প্রার্থী
নদীরপাড়ে ভাঙা টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেও সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হয়েছেন শ্রী নির্মল চন্দ্র রবিদাস নিরব। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। অন্য প্রার্থীরা যখন ব্যয়বহুল প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন নির্মল প্রতিদিন মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো কারো মোটরসাইকেলে চড়ে নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট শুনছেন এবং ভোট চাইছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার এই সরল যোগাযোগ অনেকের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। কেউ তাকে দেখছেন সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে, কেউবা নিজের জীবনের গল্পের প্রতিফলন হিসেবে। আর নির্মলও বিশ্বাস করেন মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা নিয়েই তিনি পরিবর্তনের পথে এগোতে পারবেন। জানা যায়, রবিদাস সম্প্রদায়ের সন্তান তিনি। পাঁচ ভাইবোনের দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। বাবা বীরবল চন্দ্র রবিদাস প্রতিদিন ফুলছড়ি থেকে পায়ে হেঁটে গাইবান্ধা শহরে এসে জুতা সেলাই ও পলিশ করে অল্প আয়ে সংসার চালাতেন। অনেক দিনই না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তো সন্তানরা। রাতে রান্না হলে মা ঘুম থেকে তুলে খাও
নদীরপাড়ে ভাঙা টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেও সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হয়েছেন শ্রী নির্মল চন্দ্র রবিদাস নিরব। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি।
অন্য প্রার্থীরা যখন ব্যয়বহুল প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন নির্মল প্রতিদিন মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো কারো মোটরসাইকেলে চড়ে নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট শুনছেন এবং ভোট চাইছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার এই সরল যোগাযোগ অনেকের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। কেউ তাকে দেখছেন সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে, কেউবা নিজের জীবনের গল্পের প্রতিফলন হিসেবে। আর নির্মলও বিশ্বাস করেন মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা নিয়েই তিনি পরিবর্তনের পথে এগোতে পারবেন।
জানা যায়, রবিদাস সম্প্রদায়ের সন্তান তিনি। পাঁচ ভাইবোনের দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। বাবা বীরবল চন্দ্র রবিদাস প্রতিদিন ফুলছড়ি থেকে পায়ে হেঁটে গাইবান্ধা শহরে এসে জুতা সেলাই ও পলিশ করে অল্প আয়ে সংসার চালাতেন। অনেক দিনই না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তো সন্তানরা। রাতে রান্না হলে মা ঘুম থেকে তুলে খাওয়াতেন। বর্তমানে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের নদীপাড়ে ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস তার পরিবারের। বারবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অর্থের অভাবে অষ্টম শ্রেণীর পরই পড়াশোনা বন্ধ করতে হয় নির্মলকে। বাবার সঙ্গে কাজ করে সংসারের দায়িত্ব নিতে শুরু করেন তিনি। পরে বাবার মৃত্যু হলে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে উপার্জিত টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতেন। চিকিৎসার অভাবে দুই ভাইবোনের মৃত্যু তার জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। জীবনের এসব কঠিন বাস্তবতা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে।
নির্মলের বিশ্বাস রাজনীতি যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যম হয়, তবে নদীভাঙন রোধ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
রবিদাস নিরব-এর মা জামুনি রানী কালবেলাকে বলেন, ভগবানের কাছে প্রার্থণা সবসময় করছি আমার ছেলেটি যেন ভোটে জিততে পারে। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিক কালবেলাকে বলেন, নির্মল দাদা অনেক ভাল মানুষ। সে যদি এমপি হয় তাহলে অবশ্যই গরীবের দুঃখ বুঝবে, কারণ সে নিজেও গরীব। তিনি সবসময় বলেন নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় যেহেতু আমার বাড়ি সেহেতু নদী ভাঙ্গন রোধ করাই হবে আমার সর্বপ্রথম কাজ। এছাড়া এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার ও বেকার সমস্যা দূর করার চেষ্টা করবেন তিনি। তাই দলমত নির্বিশেষে ভোট প্রদান করে জয়ী করব আমরা।
নির্মল রবিদাস নিরব কালবেলাকে বলেন, পায়ে হেঁটে ফুলছড়ি-সাঘাটার বিভিন্ন এলাকায় ভোট চাচ্ছি। এ আসনে আমার জয়ী হওয়ার সম্ভবনা আছে, কারণ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আমাকে অনেক ভালবাসে। তাদের কষ্ট গুলো খুব কাছ থেকে জানা আমার। সুতরাং আমি এমপি হতে পারলে এলাকার মানুষের সকল সমস্যা দূর করতে পারব। কষ্টকে জয় করে আজ এতদূর এসেছি, অবশ্যই সফল হব।
What's Your Reaction?