থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সব শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্ক্রিনিংয়ের ঘোষণা
ভয়াবহ বংশগত রক্তের ব্যাধি থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং প্রাক-বিবাহকালীন স্ক্রিনিংয়ে তরুণদের উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক সচেতনতা ও বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং কর্মসূচি। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য এই নতুন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইস্ট ডেল্টা মডেল’। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের আওতায় প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতার আওতায় আনা হবে এবং তাদের মাঝে তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম
ভয়াবহ বংশগত রক্তের ব্যাধি থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং প্রাক-বিবাহকালীন স্ক্রিনিংয়ে তরুণদের উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক সচেতনতা ও বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং কর্মসূচি। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য এই নতুন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইস্ট ডেল্টা মডেল’।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগের আওতায় প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতার আওতায় আনা হবে এবং তাদের মাঝে তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। চূড়ান্ত ধাপে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির এই কর্মসূচিটি বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘বায়োটেড’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেনেক্স হেলথ’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বায়োটেডের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনার এই উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম। সরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, থ্যালাসেমিয়া একটি অটোসোমাল রিসেসিভ জিনগত ব্যাধি, যেখানে অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের ফলে তীব্র রক্তাল্পতা দেখা দেয়। পিতা-মাতা উভয়েই এর বাহক হলে সন্তানের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ২৫ শতাংশ ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ ‘থ্যালাসেমিয়া বেল্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে এই রোগের প্রকোপ মারাত্মক। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১১.৪ শতাংশ মানুষ বা প্রায় ২ কোটি মানুষ এই রোগের বাহক। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক বাহকের বয়স ১৪ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
What's Your Reaction?