দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি ভারত

ভারতে মুসলিম নির্য়াতন ও সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান উপর্যুক্ত মন্তব্য করে বলেন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। আজ ২৩মে ২০২৬ইং শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে এখন যে তিনটি রাষ্ট্রের দ্বারা মুসলিমরা হত্যা ও নিগ্রহ ও ষড়যন্ত্রের শিকার তারা হলো ইসরাইল, ভারত এবং আরব আমিরাত। তাদের যোগসাজস এবং তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। আর একই সাথে বাংলাদেশের ভারত তোষণকারী দেশবিরোধী শক্তিকেও চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদ সাম্প্রতিক কোনো বিষয় নয়। এর ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। বৃটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া জুলুমের ধারাবাহিকতা আজকে একটি বৈশ্বিক রূপনিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের করণীয় সম্পর্কে তিনি দিক নির্দেণনা প্রদান করেন। ভারতের সাথে চোরাচালানের ব্যবসা ও মাদকপণ্য আসা বন্ধ করা এবং ভারতীয় গরু কেনা ও ভারতীয় পণ্য ব্যবহার বর্জনের জন্য জনমত গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিতে বলেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে ভারত প্রশ্নে নিরবতা পরিহারের পরামর্শ দেন। সরকারকে তিনি নেপালের প্

দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি ভারত

ভারতে মুসলিম নির্য়াতন ও সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান উপর্যুক্ত মন্তব্য করে বলেন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি।

আজ ২৩মে ২০২৬ইং শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে এখন যে তিনটি রাষ্ট্রের দ্বারা মুসলিমরা হত্যা ও নিগ্রহ ও ষড়যন্ত্রের শিকার তারা হলো ইসরাইল, ভারত এবং আরব আমিরাত। তাদের যোগসাজস এবং তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। আর একই সাথে বাংলাদেশের ভারত তোষণকারী দেশবিরোধী শক্তিকেও চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদ সাম্প্রতিক কোনো বিষয় নয়। এর ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। বৃটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া জুলুমের ধারাবাহিকতা আজকে একটি বৈশ্বিক রূপনিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের করণীয় সম্পর্কে তিনি দিক নির্দেণনা প্রদান করেন। ভারতের সাথে চোরাচালানের ব্যবসা ও মাদকপণ্য আসা বন্ধ করা এবং ভারতীয় গরু কেনা ও ভারতীয় পণ্য ব্যবহার বর্জনের জন্য জনমত গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিতে বলেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে ভারত প্রশ্নে নিরবতা পরিহারের পরামর্শ দেন। সরকারকে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বলেন। বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক যারা অবৈধ অবস্থান করছেন তাদেরকে পুশব্যাক করার আহবান জানান।

সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন জনাব মো. শাহ আলম। তিনি সাম্প্রতিককালে ভারতে মুসলিমদের ওপর পরিচালিত বহুবিধ নির্যাতনের ধরণ ও প্রকৃতিগুলো বিশ্লেষণ করেন। তিনি মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সহিংসতা, আইনী বৈষম্য, বিদ্বেষ প্রচার এবং রাষ্ট্রীয় যোগসাজসের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ জনাব জিয়াউল হক বলেন, ১৫ শতাব্দীতে স্পেনে মুসলিম নিধনের মরিসকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে শুরু করেছে ভারত। কেবল মুসলিম নিধন নয় পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও বিহারে বাঙালীদের বাঙালী এবং মুসলিম পরিচয় আজ নিশ্চিহ্নের পথে। আমাদেরকে মানুষ, বাঙালী এবং মুসলিম- তিনভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক বলেন, আমাদেরকে বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের লেবার পারমিট বাতিল করতে হবে। ভারতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

এমিরিটাস প্রফেসর ড. শাহজাহান খান বলেন, ভারত কেবল মুসলিমদের নির্যাতন করছে তাই নয়, ভারতে প্রচুর গীর্জা ভাঙা হয়েছে, শিখদের ওপরও নিষ্ঠুরতা করা হয়েছে। ভারতের এই অপরাধ প্রবণতাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে। ওআইসি, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভারতের ঘৃণ্য তৎপরতা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

এ বি পাটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমাদের সুশীল সমাজ শাহবাগী-শুভেন্দুদের বিজেপি বয়ানের ব্যাপারে কথা বলতে মুখে ললিলপ নিয়ে আছে। এসবের পরিণতি ভালো নয়। এ ব্যাপারে তিনি কাশ্মীরে তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের তল্পিবাহক মুসলিম নেতাদের দৃষ্টান্ত সামনে রাখতে বলেন।

অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফ ও এইচের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার রাশেদুল হক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow