দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হচ্ছে: ডব্লিওএফপি

ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এর ফলে দরিদ্র দেশগুলোর লাখো মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বুধবার (১০ জুন) বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিওএফপি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ-এর বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন। কার্ল স্কাউ বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে জাতিসংঘের এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দামও বেড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সুদানের মতো দেশে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব চাপ এমন এক সময়ে আসছে যখন ডব্লিওএফপি গুরুতর অর্থসংকটে ভুগছে। স্কাউ বলেন, অনেক জায়গায় আমরা এর মধ্যেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে খাবার নিয়ে আরও বেশি অনাহারগ্রস্তদের দিচ্ছি। সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল সংস্থাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন হ্রাসের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানও কমেছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন ডলারে যেখানে

দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হচ্ছে: ডব্লিওএফপি

ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এর ফলে দরিদ্র দেশগুলোর লাখো মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বুধবার (১০ জুন) বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিওএফপি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ-এর বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।

কার্ল স্কাউ বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে জাতিসংঘের এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দামও বেড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সুদানের মতো দেশে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এসব চাপ এমন এক সময়ে আসছে যখন ডব্লিওএফপি গুরুতর অর্থসংকটে ভুগছে। স্কাউ বলেন, অনেক জায়গায় আমরা এর মধ্যেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে খাবার নিয়ে আরও বেশি অনাহারগ্রস্তদের দিচ্ছি।

সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল সংস্থাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন হ্রাসের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানও কমেছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন ডলারে যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

স্কাউ আরও বলেন, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে খাদ্যের দাম যদি ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে মানুষ বাধ্য হয়ে ২০-৩০ শতাংশ কম খাবার খায়।

মার্চ মাসে সতর্কবার্তা দিয়ে ডব্লিওএফপি জানিয়েছিল যে, যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে তাহলে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে। স্কাউর মতে, এর প্রভাব এর মধ্যেই শ্রীলংকা, সোমালিয়া এবং আফগানিস্তানে স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি হরমুজ প্রণালি আগামীকালই খুলে দেওয়া হয় তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

স্কাউর ভাষায়, আগের অবস্থা পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে। আমরা আশা করি এই সংঘাত শেষ হবে এবং প্রণালিটি দ্রুত খুলে যাবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, এই সংকটের ধাক্কা সামলাতে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের রক্ষা করতে ধনী দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow