দর্জিপাড়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে কারিগরদের
দিনাজপুরে ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে দর্জি ও থান কাপড়ের দোকানগুলো। বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। দর্জিরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন পোশাক তৈরিতে। তবে আগের তুলনায় কাপড়ের দাম ও মজুরিও বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা। কাস্টমাররা যাতে সময়মতো নতুন পোশাক পান, সেজন্য নির্ঘুম রাত কাটছে কারিগরদের। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, মালদহপট্টি এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও টেইলার্স ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার ও মালদহপট্টিতে সবচেয়ে বেশি কাপড়ের দোকান। সে কারণে এই এলাকায় জমজমাট দর্জির দোকান। সরেজমিনে দেখা যায়, থান কাপড়ের দোকানে যেমন ভিড়, তেমনি টেইলার্সগুলোতেও ব্যস্ততা। একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ আর অন্য পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা। ফরমায়েশ নেওয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের। বিরতিহীন সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ বলছে, দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। আর এ ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। শবে বরাতের পর থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পোশাক তৈরির চাপ। চলছে অর্ডার নেওয়ার শেষ সময়। তবে ঈদ উপলক্ষে দর্জির দোকানগুলোতে ২৪-২৫ রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেবে বলে জানালেন মালিকরা। বাহাদুর বাজার বোস্তান মার্কেটে
দিনাজপুরে ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে দর্জি ও থান কাপড়ের দোকানগুলো। বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। দর্জিরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন পোশাক তৈরিতে। তবে আগের তুলনায় কাপড়ের দাম ও মজুরিও বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা। কাস্টমাররা যাতে সময়মতো নতুন পোশাক পান, সেজন্য নির্ঘুম রাত কাটছে কারিগরদের।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, মালদহপট্টি এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও টেইলার্স ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার ও মালদহপট্টিতে সবচেয়ে বেশি কাপড়ের দোকান। সে কারণে এই এলাকায় জমজমাট দর্জির দোকান।
সরেজমিনে দেখা যায়, থান কাপড়ের দোকানে যেমন ভিড়, তেমনি টেইলার্সগুলোতেও ব্যস্ততা। একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ আর অন্য পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা। ফরমায়েশ নেওয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের। বিরতিহীন সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ বলছে, দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। আর এ ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। শবে বরাতের পর থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পোশাক তৈরির চাপ। চলছে অর্ডার নেওয়ার শেষ সময়। তবে ঈদ উপলক্ষে দর্জির দোকানগুলোতে ২৪-২৫ রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেবে বলে জানালেন মালিকরা।
বাহাদুর বাজার বোস্তান মার্কেটের ইউসুফ টেইলার্সের মালিক লুৎফর রহমান লুত, জাবেদ সুপার মার্কেটের ডিএন টেইলার্সের মালিক ফজলার রহমান, মৌসুমি টেইলার্সের মালিক মাহাবুব আলম, রোস্তম সুপার মার্কেটের আজাহার টেইলার্সের মালিক শাহাজাহান বলেন, পছন্দের পোশাকের জন্য থ্রি-পিস ও থানকাপড়, শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি ও জুব্বার পিস কিনে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন দর্জির দোকানগুলোতে। ক্রেতাদের পছন্দমতো পোশাক বানাতে দিনরাত দোকান খোলা রেখে কাজ করছেন দর্জিরাও। আবার কোনো কোনো টেইলার্স কাজের চাপ সামলাতে মৌসুমি কারিগর এনেছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে।
বাহাদুর বাজার ইউনিক ইউনিক টেইলার্সের মো. ফোরকান বলেন, গতবারের চেয়ে এবার অর্ডার কম। তারপরও যে অর্ডার পেয়েছি তা নেহাত কম নয়। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপের কারণে খাওয়া-ঘুমের সময় পাচ্ছি না। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কাজ এবং জামা-কাপড় ডেলিভারি করি। সবকিছুর দাম বাড়তি, সেই রেশ পড়ে মজুরিতেও। তাই অর্ডার কম।
ক্রেতারা জানান, রেডিমেড পোশাকের চেয়ে বানানো পোশাকের কাপড় ও ফিটিং ভালো হয়। তাই দর্জির দোকানে আসেন অনেকে।
কারিগর মাসুদ রানা সুমন জানান, বেশিরভাগ ক্রেতারা শোরুমে যাচ্ছে। কারণ সেলাই করার মজুরি বেশি, আর শো-রুমে গেলে তৈরি পোশাক কম দামে পায়। মালিকরা প্যান্ট সেলাইয়ের মজুরি নেন ৬০০ টাকা, আমরা পাই ২২০ টাকা, বিভিন্ন খরচ ৯০ টাকা। শার্ট সেলাই ৪৫০ টাকা, মজুরি ১৪০ টাকা।
মহিলা কারিগর পুতুল আক্তার বলেন, প্রায় ১৪ বছর ধরে আমি এই কাজ করছি। আগের তুলনায় এইবার কাজ মোটামুটি বলা চলে। আমার মনে হয় গতবার কাজ বেশি ছিল। আমি প্রতিদিন ৫টি সেট সেলাই করি। কাজটি করে আমি চলতে পারি।
কারিগর আব্দুল খালেক বলেন, আমরা প্রতিদিন ৫টি প্যান্ট ও ১০টি শার্ট সেলাই করতে পারি। বর্তমানে আমাদের দৈনিক ইনকাম ১০০০ টাকা। ঈদের বাজার অনুযায়ী কাজ ভালোই আছে। সকাল ১০টায় আসি, সেহরির সময় বাসায় যাচ্ছি।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?