দাদির সঙ্গে নদীতে গোসলে নেমে তলিয়ে গেল নাতি

শরীয়তপুরের জাজিরায় দাদির সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সিয়াম (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের ভানু মুন্সি কান্দি এলাকায় কীর্তিনাশা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম উপজেলার ভানু মুন্সি কান্দি এলাকার প্রবাসী মাহবুব মাদবরের ছেলে। সে স্থানীয় ভানু মুন্সি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে সিয়াম তার দাদির সঙ্গে কীর্তিনাশা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে দাদির অগোচরে সে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। নাতিকে দেখতে না পেয়ে দাদি ও আশপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে আনা হয়। পরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সিয়ামের দাদি শোকে মূহ্যমান হয়ে বলেন, আমি নাতিকে নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। আমি একপাশে ছিলাম ও একটু দূরে খেলছিল। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ও নেই। চোখের সামনে নাতিটা চলে গেল, আমি কিছুই করতে পারলাম না।  সিয়ামের প্রতিবেশী মো

দাদির সঙ্গে নদীতে গোসলে নেমে তলিয়ে গেল নাতি

শরীয়তপুরের জাজিরায় দাদির সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সিয়াম (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের ভানু মুন্সি কান্দি এলাকায় কীর্তিনাশা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিয়াম উপজেলার ভানু মুন্সি কান্দি এলাকার প্রবাসী মাহবুব মাদবরের ছেলে। সে স্থানীয় ভানু মুন্সি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে সিয়াম তার দাদির সঙ্গে কীর্তিনাশা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে দাদির অগোচরে সে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। নাতিকে দেখতে না পেয়ে দাদি ও আশপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে আনা হয়। পরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সিয়ামের দাদি শোকে মূহ্যমান হয়ে বলেন, আমি নাতিকে নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। আমি একপাশে ছিলাম ও একটু দূরে খেলছিল। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ও নেই। চোখের সামনে নাতিটা চলে গেল, আমি কিছুই করতে পারলাম না। 

সিয়ামের প্রতিবেশী মো. রাসেল আকন জানান, সিয়ামের বাবা প্রবাসে থাকেন। ছেলেটি অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী ছিল। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা রবিন জানান, নদীর ওই ঘাটে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্ত থাকায় শিশুদের জন্য এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান হাওলাদার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সেই সঙ্গে শিশুদের নদীতে গোসলের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow