দানের টাকায় নির্বাচন করবেন জামায়াতের সাইয়েদ আহমদ
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মো. মফিজুর রহমান দুজনই কোটিপতি ব্যবসায়ী। তবে বিপরীত অবস্থা জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদের। তিনি দান-অনুদান নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জয়নুল আবদিন ফারুক, কাজী মো. মফিজুর রহমান ও অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদের জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এমএ পাস করা বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি বছরে আয় করেন ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা। অন্যদিকে এসএসসি পাস স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি বছরে আয় করেন তিন কোটি ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা। পাশাপাশি কামিল পাস জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি বছরে আয় করেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা। সম্পদের দিক দিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বর্তমান বাজারমূল্যে ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭৮ টাকার অস্থাবর
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মো. মফিজুর রহমান দুজনই কোটিপতি ব্যবসায়ী। তবে বিপরীত অবস্থা জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদের। তিনি দান-অনুদান নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জয়নুল আবদিন ফারুক, কাজী মো. মফিজুর রহমান ও অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদের জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এমএ পাস করা বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি বছরে আয় করেন ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা। অন্যদিকে এসএসসি পাস স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি বছরে আয় করেন তিন কোটি ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা। পাশাপাশি কামিল পাস জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি বছরে আয় করেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
সম্পদের দিক দিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বর্তমান বাজারমূল্যে ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭৮ টাকার অস্থাবর এবং চার লাখ ৮০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। কাজী মো. মফিজুর রহমানের অস্থাবর ৪১ কোটি ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৭ টাকার এবং আট কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৯ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের মাওলানা সাইয়েদ আহমদ অস্থাবর ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৯ টাকার এবং স্থাবর ২২ শতাংশ কৃষি জমির (মূল্য নির্ধারিত নেই) মালিক।
জয়নুল আবদিন ফারুকের কাছে নগদ আছে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৩ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ১০৪ টাকা। কাজী মো. মফিজুর রহমানের কাছে নগদ আছে দুই কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৪ টাকা। অন্যদিকে মাওলানা সাইয়েদ আহমদের কাছে নগদ আছে চার লাখ ৫ হাজার ৭৩০ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে তিন লাখ ৭৬ হাজার ৯ টাকা।
বছরে আয়ের মধ্যে জয়নুল আবদিন চাকরি থেকে পান ২৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক সুদ ও সম্মানী ভাতা পান চার লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা।
কাজী মো. মফিজুর রহমান বছরে কৃষিখাত থেকে দুই লাখ ৯২ হাজার ১৫০ টাকা, বাড়ি-অ্যাপার্টম্যান্ট ভাড়া ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৫ টাকা, ব্যবসা থেকে ৩৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৬ টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র থেকে দুই কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার ৬২৭ টাকা, দি এশিয়া প্যাসিপিক ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানী সাত লাখ ৬১ হাজার ৩৭৯ টাকা, কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সম্মানী এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং ব্যাংক থেকে সুদ পান ছয় লাখ ৪ হাজার ৮৭১ টাকা।
অন্যদিকে মাওলানা সাইয়েদ আহমদ বছরে কৃষিখাত থেকে ৩০ হাজার টাকা অর্জন ছাড়া আর কোনো আয় নেই। তবে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের থেকে দান-অনুদান নিয়ে নির্বাচনি ব্যয় মেটাবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
আত্মীয়দের মধ্যে সম্ভাব্য অনুদান দাতারা হলেন ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম থেকে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা, শ্যালক ব্যবসায়ী গোলাম মর্তুজা থেকে ১০ লাখ টাকা, বেয়াই ইতালী প্রবাসী মাঈন উদ্দিন থেকে ১০ লাখ টাকা। আত্মীয়ের বাইরে সেনবাগ বাজারের ইয়াছিন ট্রেডার্সের মালিক হাজী বেলাল হোসেন, জাহেদ ট্রেডার্সের মালিক আবু জাহেদ, নবীপুরের রাজধন ব্রিকসের মালিক মাসুদুর রহমান, ঢাকার মিরপুরের মাসুম ফার্মেসির মালিক মাহবুবুর রহমান ও হারমাইন ডেভেলপমেন্টের মালিক শেখ বদরুল হাসান মামুনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে আরও ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তার বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদ নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।
জয়নুল আবদিন সেনবাগ উপজেলার ছমির মুন্সির হাট এলাকার ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মৃত আবদুল হক। মা মৃত হাফেজা খাতুন। কাজী মো. মফিজুর রহমান একই উপজেলার পরিকোট এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম কাজী মো. নুরুজ্জামান, মায়ের নাম সাবেদা জামান।
মাওলানা সাইয়েদ আহমদ সোনাইমুড়ী উপজেলার মহেসগঞ্জ এলাকার পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৌলভি ইব্রাহিম ও মায়ের নাম আংকুুরের নেছা।
নোয়াখালী-১ আসনে এ তিনজন ছাড়াও আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তোফাজ্জল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার।
এ আসনে ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার তিন লাখ ৬০ হাজার ৮১ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৮৬ হাজার ৩০৬ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৪ জন। এছাড়া একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি ও ভোটকক্ষ রয়েছে ৭০০টি।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এএসএম
What's Your Reaction?