দুই বোনের পাঠশালায় জাগছে মান্তা শিশুদের স্বপ্ন
বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে চলা মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের জীবনে বই-খাতা ছিল প্রায় অচেনা। জীবিকার তাগিদে অনেকের শৈশব কেটেছে নদীতে, জালে আর নৌকায়। সেই বাস্তবতায় বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে দুই তরুণী বোনের ছোট্ট উদ্যোগ জাগাচ্ছে নতুন স্বপ্ন। খোলা আকাশের নিচে গড়ে ওঠা একটি পাঠশালায় অক্ষরজ্ঞান ছড়িয়ে দিয়ে তারা বদলে দিতে চাইছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের বঞ্চনার গল্প। আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে গড়ে উঠেছে দুই বোন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তারের ছোট এক পাঠশালা। সেখানে প্রতিদিন বিকেলে মান্তা সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছেন তারা। নিজেদের বাড়ির আঙিনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাঠশালাটিতে শিশুদের বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা, সংখ্যা, ছড়া-কবিতা এবং প্রাথমিক আরবি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আগে যারা কখনও বই-খাতা হাতে নেয়নি তারাও এখন নিজেদের নাম লিখতে পারছে, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। পাঠশালার শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু জান্নাত জানায়, আগে বাবা-মায়ের সঙ্
বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে চলা মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের জীবনে বই-খাতা ছিল প্রায় অচেনা। জীবিকার তাগিদে অনেকের শৈশব কেটেছে নদীতে, জালে আর নৌকায়। সেই বাস্তবতায় বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে দুই তরুণী বোনের ছোট্ট উদ্যোগ জাগাচ্ছে নতুন স্বপ্ন। খোলা আকাশের নিচে গড়ে ওঠা একটি পাঠশালায় অক্ষরজ্ঞান ছড়িয়ে দিয়ে তারা বদলে দিতে চাইছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের বঞ্চনার গল্প।
আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে গড়ে উঠেছে দুই বোন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তারের ছোট এক পাঠশালা। সেখানে প্রতিদিন বিকেলে মান্তা সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছেন তারা। নিজেদের বাড়ির আঙিনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পাঠশালাটিতে শিশুদের বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা, সংখ্যা, ছড়া-কবিতা এবং প্রাথমিক আরবি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আগে যারা কখনও বই-খাতা হাতে নেয়নি তারাও এখন নিজেদের নাম লিখতে পারছে, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।
পাঠশালার শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু জান্নাত জানায়, আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে নৌকায় মাছ ধরতে যেত। এখন সে পড়াশোনা শিখছে এবং বড় হয়ে চাকরি করতে চায়। তার স্বপ্ন, বাবা-মাকে নিয়ে নদীর জীবন ছেড়ে ডাঙায় একটি ঘরে বসবাস করা।
মান্তা পরিবারের সদস্য পারভীন বেগম বলেন, আমার এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়মিত নদীপাড়ের ওই স্কুলে যায়। আমরা জীবিকার জন্য সারাদিন নদীতেই থাকি। মাছ ধরে বিক্রি করেই সংসার চলে। আমরাও পড়াশোনা করিনি, ছেলে-মেয়েদেরও পড়াশোনা করানো হয় না। মুন্নি আপা ওদের ডেকে পড়াশোনা শেখায়। প্রথমে যেতে না চাইলেও এখন প্রতিদিন বিকেলে বই-খাতা নিয়ে পড়তে যায় ওরা। আমরা চাই নদীর পাড়ে একটি স্কুল হোক। আমাদের ছেলে-মেয়েরা সেখানে পড়াশোনা করবে। আমাদের মতো ওদের জীবনও নদীতেই না কাটুক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর তীরে প্রায় ৭০টি মান্তা পরিবার অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং নদীনির্ভর জীবিকার কারণে এসব পরিবারের অধিকাংশ শিশুই বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে যায়। ফলে ছোটবেলা থেকেই তারা জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
এমন বাস্তবতা দেখেই উদ্যোগ নেন মুন্নি ও মিতু। তারা প্রথমে শিশুদের অভিভাবকদের পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে আগ্রহ কম থাকলেও ধীরে ধীরে শিশুদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার বলেন, এই শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ওদের মেধা অনেক ভালো, কিন্তু সুযোগের অভাবে পিছিয়ে আছে। তারা এখন কেউ বর্ণমালা, কেউ সংখ্যা গোনা, কেউ ছবি আঁকা শিখছে। সঠিক পরিবেশ ও তদারকি পেলে তারা আরও ভালো করবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা আছে।
বেদেপল্লীর বাসিন্দা পারভীন বেগম বলেন, আমরা নিজেরা পড়াশোনা করতে পারিনি। এখন চাই আমাদের সন্তানরা যেন লেখাপড়া শিখে ভালো জীবন গড়তে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল জানান, নদীর তীরে ছোট্ট এই পাঠশালাটি এখন শুধু অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ ভাবনা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় টিনের ব্যবস্থা হলে সেখানে একটি স্থায়ী স্কুলঘর নির্মাণ করা হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষাবঞ্চিত মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি ও নিয়মিত পাঠদানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তারের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ।
এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?

